বরগুনার তালতলীতে রাখাইনদের মাতৃভাষা শিক্ষাদান প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না থাকায় বিলুপ্তির পথে রয়েছে এই ভাষা। বরগুনা, পটুয়াখালী, কক্সবাজারসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় প্রায় ১৭ হাজার রাখাইন নৃগোষ্ঠীর বাস। এর মধ্যে শুধু বরগুনাতেই রয়েছে প্রায় দেড় হাজার। ২০১৫ সালে বরগুনার রাখাইন অধ্যুষিত তালতলী উপজেলার ছাতনপাড়া গ্রামে সরকারি উদ্যোগে চালু করা হয় রাখাইন মাতৃভাষা ও মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র। শিক্ষাকেন্দ্রটিতে স্থানীয় দরিদ্র রাখাইন শিশুদের বিনামূল্যে মাতৃভাষাসহ মৌলিক ধর্ম শিক্ষার সুযোগ হয়। এ জন্য স্থানীয় ক্রাথন চিং নামের এক শিক্ষানুরাগীকে অস্থায়ীভাবে ৭ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানিতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর বেশ কিছুদিন ঠিকঠাক চলার পর হঠাৎ ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আবার মুখ থুবড়ে পড়ে রাখাইন মাতৃভাষা শিক্ষাকার্যক্রম। শিক্ষাকেন্দ্রটিতে বর্তমানে ২০ শিক্ষার্থী রয়েছে। মাতৃভাষায় শিক্ষাদান প্রকল্পটি অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও এই শিক্ষাকেন্দ্রের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন ক্রাথন চিং।
রাখাইন ভাষার শিক্ষক ক্রাথন চিং বলেন, নিজ উদ্যোগে ১৯৭১ সাল থেকে স্থানীয় রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষা শিক্ষা দিয়ে আসছেন তিনি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের আওতায় রাখাইন মাতৃভাষা ও মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। চালু হওয়ার পর দুই বছর বেতন-ভাতা পেলেও এখন কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না তিনি। খুব কষ্ট করে শিক্ষাকেন্দ্রটি চালাতে হচ্ছে তাকে। স্থানীয় রাখাইন অধিবাসীদের দাবি, রাখাইন মাতৃভাষাকে সংরক্ষণ ও টিকিয়ে রাখতে হলে তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ করে দিতে হবে। বরগুনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, প্রকল্পটি কেন বন্ধ, সেটা তার জানা নেই। তবে রাখাইন সম্প্রদায়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মাতৃভাষা সংরক্ষণের লক্ষ্যে স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে শিগগিরই তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।