পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পর ভারতজুড়ে চলমান পাকিস্তান বিরোধী ক্ষোভ থেকে বাদ পড়ল না জেলখানাও। ভারতের জয়পুরে জেলের ভেতর এক পাকিস্তানি বন্দীকে পিটিয়ে মেরে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।
রাজস্থানের আইজি (কারা) রুপিন্দর সিংহের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে। কারাবন্দীদের হাতে নিহত পাকিস্তানি ওই বন্দীর নাম শাকিরুল্লাহ। ভারতে অনুপ্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ এবং পাচারের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জেল কর্তৃপক্ষ জানায়, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার পাকিস্তানি নাগরিক শাকিরুল্লাহ বেশ কিছুদিন ধরে জয়পুর জেলে বন্দী ছিলেন। বুধবার সকালে তার ওপর প্রথমে সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি চড়াও হলেও, পরবর্তীতে অন্য বন্দীরাও এতে যোগ দেয়। সকলে মিলে শাকিরুল্লাকে বাঁশ-লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানোর পাশাপাশি তাকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।
খবর পেয়েই জেলের বিপদ ঘণ্টা বাজানো হলে নিরাপত্তারক্ষীরা ছুটে গিয়ে বন্দীদের হাত থেকে শাকিরুল্লাহকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে জেল কর্তৃপক্ষ পুলিশ প্রশাসনকে খবর পাঠায়। পরে একটি মেডিকেল টিম এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাকিরুল্লাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু এবং কাশ্মীরের গোরিপোড়া এলাকায় পুলওয়ামাতে গত বৃহস্পতিবার জঙ্গি হামলায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) ৪০ সেনার মৃত্যু হয়। তার পর থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রোশে ফুঁসছে ভারতবাসী।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, পুলওয়ামায় হামলাকারী জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ শুধু নয়, জঙ্গিদের মদদদাতাদেরও ‘জবাব’ দেওয়া হবে।
উত্তর প্রদেশের ঝাঁসিতে আয়োজিত এক সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদীদের এবং তাদের মদদদাতাদের আমি বলতে চাই, তারা খুব বড় ভুল করে ফেলেছে। এর জন্য খুব চড়া মূল্য চোকাতে হবে তাদের।’
পাকিস্তান ভারতের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সন্ত্রাসীদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করার কারণে সম্প্রতি ইউরোপিয়ান কমিশনের কালো তালিকাভুক্ত হওয়া দেশটি বলছে, ‘ভারতের একচেটিয়া অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। পাকিস্তান কখনোই সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেয়নি। কাশ্মীরের দায় পাকিস্তানের ওপর বর্তাতে পারে না।’