প্রশ্নফাঁসের মূল হোতারা নাগালের বাইরে

যেকোনো পাবলিক পরীক্ষা এলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রশ্ন ফাঁসকারী একাধিক চক্র। বিভিন্ন অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চক্রটি প্রশ্ন বিক্রি করে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। প্রকৃত প্রশ্নের পাশাপাশি ভুয়া প্রশ্নও বিক্রি করে তারা। প্রায়ই চক্রের সদস্যরা আটক হয়। অনেকেই আইনের ফাঁক গলিয়ে বের হয়ে আবারও জড়ায় একই চক্রে। ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায় চক্রের মূল হোতারা। পুলিশ বলছে, বেশিরভাগ সময় তাদের হাতে ফিজিক্যাল তথ্য না থাকায় মূল হোতাদের আটক করা সম্ভব হয় না।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মতিঝিলের ফকিরাপুল এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের একটি টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে। তারা হলোÑ আবদুল্লাহ ফাহিম (২০), শামীম আহমেদ (১৯), সোহেল রানা (১৭) ও নবীন আলী (২২)। এ সময় তাদের কাছে থাকা ভুয়া প্রশ্নপত্র, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এদের মধ্যে ফাহিম ২০১৮ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয় ও পরে আদালত থেকে জামিন পায়। চক্রের অপর সদস্য আরমান, রিমন ও শুভকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাইবার ওয়ার্ল্ডে প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের ওপর নজর রয়েছে আমাদের। চক্রের মূল হোতাদের ধরতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। চক্রের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে পারলে প্রশ্ন সরবরাহকারীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’ এ বিষয়ে গতকাল বুধবার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন বলেন, ‘মঙ্গলবার চক্রটি ঢাকায় মিলিত হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি টিম অভিযান চালিয়ে ফকিরাপুল হোটেল জোনাকির (আবাসিক) সামনে থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।’

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এসএসসি, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা, মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস করত বলে স্বীকার করেছে। তারা ভুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। আটকদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।