মেয়র অভিযান শুরু করতে করতেই ঝরল ৭০ প্রাণ

অভিযান শুরুর হুমকি দিতে দিতেই রাজধানীর চকবাজারে ঝরল আরো ৭০ প্রাণ। এর আগে একাধিক অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল কারখানা উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছেন। 
১২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে কেমিক্যাল কারখানা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সে অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানায় অভিযান চালাবে ডিএসসিসি।

ওই মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের ব্যাংক ফ্লোর সম্মেলন কক্ষে ‘ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও কেমিক্যাল পল্লিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে মেয়র এসব কথা বলেন।

এরপর শনিবার সাঈদ খোকন বলেন, পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউনে চলতি সপ্তাহে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ নয় এমন কেমিক্যাল ছাড়া কেউ ব্যবসা করতে পারবেন না।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

তবে বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের আবারো অভিযান শুরুর কথা জানিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন উচ্ছেদের জন্য গত সোমবার থেকেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু হয়েছে। আগুন লাগার ঘটনার সাত-আট দিন আগে এফবিসিসিআই’র মাধ্যমে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি বৈঠকও করা হয়েছিল। তারপর থেকে আমরা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করি। আমাদের আগে থেকেই উচ্ছেদ অভিযান চলছিল। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গতকাল (বুধবার) এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। কেরানীগঞ্জে একটি জায়গা শনাক্ত করা হয়েছে, সেখানে গোডাউনগুলো স্থানান্তর করা হবে।’

এর আগে ২০১৭ সালে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় পুরান ঢাকায়। মার্চে রাজধানীর মিটফোর্ড ও লালবাগসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে ধর্মঘট ডাকে ব্যবসায়ীরা। তখনো মেয়র ছিলেন সাঈদ খোকন।

ডিএসসিসি পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল ও রাসায়নিক দ্রব্যের গোডাউন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার প্রতিবাদে এ ধর্মঘট পালন করে বাংলাদেশ কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউমারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠন।

মঙ্গলবারের সভায় মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, নিমতলি ট্র্যাজেডির পরই কেমিক্যাল গোডাউনগুলো সরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, কিন্তু সম্ভব হয়নি। চলতি সপ্তাহেই ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গোডাউনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে। ঝুঁকিপূর্ণ নয় এমন কেমিক্যাল ছাড়া কেউ ব্যবসা করতে পারবেন না।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার পর চকবাজারের নন্দকুমার দত্ত রোডের শেষ মাথায় মসজিদের পাশে ৬৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওয়াহিদ ম্যানসনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে ভয়াবহ আগুন আশপাশের কয়েকটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত নিহত ৭০ জনের মধ্যে ৬৭ জনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন নয়জন। আহতদের মধ্যে ৩২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় দাহ্য পদার্থের গোডাউন ও দোকান রয়েছে।

এসব রাসায়নিকের (কেমিক্যাল) কারণে আগুন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিক গুদামের অগ্নিকাণ্ডে ১২৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। এ ছাড়া দগ্ধ হয়েছে আরো শতাধিক মানুষ। এ ঘটনার পর নিমতলী থেকে কিছু গুদাম ও কারখানা সরানো হলেও পুরান ঢাকার অন্য এলাকা থেকে খুব বেশি সরেনি।