অগ্নিকাণ্ড নিয়ে যা বলল কর্র্তৃপক্ষ

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় গত বুধবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন প্রায় অর্ধশত। ঘটনার পর সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্তাব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কথা বলেছেন। হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়েও অনেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন সরাতে বলে  আসছি। সরিয়েও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবার এগুলো এই এলাকায় চলে এসেছে। মেয়র বলেছেন, তারা আর লাইসেন্স নবায়ন করছেন না। তিনি পদক্ষেপ নেবেন এগুলো সরানোর জন্য। মেয়র আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আমরা সব ক্লিয়ার করে দেব।’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় দাহ্য পদার্থ ও কেমিক্যালের গোডাউন উচ্ছেদ অভিযান চলছিল। গত সোমবার মোবাইল কোর্ট চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে এমন ট্র্যাজেডি দেখতে হলো। এসব দাহ্য পদার্থের গোডাউন উচ্ছেদের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বিবিসিকে বলেন, ‘উচ্চমাত্রার রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের কারণেই অগ্নিকাণ্ড বীভৎস রূপ পেয়েছে। নিমতলীর ঘটনার পর এ ধরনের দাহ্য পদার্থের দোকান বা গোডাউন সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ২৯টি কেমিক্যালের তালিকাও করেছিলাম যেগুলো রাখা যাবে না। নিষেধাজ্ঞা মানলে বা এটি বাস্তবায়ন করা গেলে আজ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।’ এই অগ্নিকাণ্ডকে ‘নিমতলীর ঘটনার পুনরাবৃত্তি’ মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘অগ্নিদগ্ধদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। চিকিৎসা খরচ সরকার বহন করবে। ঢাকা মেডিকেলসহ কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘এ ধরনের জনবহুল আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যালের সব ধরনের উৎস সরিয়ে ফেলা উচিত। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু কেমিক্যালের এসব উৎস অপসারণে সিটি করপোরেশনসহ আরও বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে। এর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, আজকের এই ঘটনায় তারা আবারও শিক্ষা পেয়েছেন। আর যেন এমন ঘটনা না ঘটে সেজন্য এখন ব্যবস্থা নেবেন। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পুনর্বাসনে সরকার সহযোগিতা করবে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা প্রতিবেদন দিলে সে আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।