মাসখানেক আগেও যে ব্রয়লার মুরগি কেনা যেত ১২০-১৩০ টাকায়, তা কিনতে এখন ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১৫০-১৭০ টাকা। বিক্রেতাদের দাবি, খামার থেকে মুরগি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তা ছাড়া চাহিদাও বেশি, তাই দামও বেশি। তবে শুধু চাহিদা বাড়ার অজুহাতে মুরগির দাম ৩০-৪০ টাকা বাড়ায় খানিকটা অস্বস্তিতে সাধারণ ক্রেতারা। তারা বলছেন, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে ভোগান্তিও বাড়তে থাকবে। তবে গতকাল শুক্রবার সবজির বাজারে স্বস্তি লক্ষ করা গেছে।
গতকাল রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে মুরগি কিনতে এসে মো. শাহিন আলম বলেন, ‘এক মাস আগে মুরগির কেজি ছিল ১৩০ টাকা। বাড়তে বাড়তে এখন তা ১৭০-এ গিয়ে ঠেকেছে। এভাবে চলতে থাকলে মুরগির মাংস খাওয়া বাদ দিতে হবে।’ দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের মুরগিবিক্রেতা আকবর হোসেন জানান, তারা কাপ্তানবাজার থেকে বেশি দামে মুরগি কিনে আনছেন। ফলে কম দামে বিক্রির কোনো উপায় নেই।
তবে চাহিদা বাড়ার দোহাই দিলেন মোহাম্মদপুরের খামার মালিক শুক্কুর আলী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাস অনুষ্ঠানের মাস। এ মাসে মুরগির চাহিদা বেড়ে যায়। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুরগির বাচ্চার দামও হঠাৎ বেড়ে যায়। বাচ্চা বেশি দাম দিয়ে কিনলে বড় করে বিক্রিও তো বেশি দামেই করতে হবে। সে কারণে ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে।’
গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৭০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকায়। লেয়ার মুরগি ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকায়। কক (ছোট) বিক্রি হয়েছে ১৮০-১৯০ টাকা পিস। মাঝারি আকারের কক ২২০-২৪০ টাকা, আর বড় বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩২০ টাকায়। তবে কমেনি দেশি মুরগির দাম। গত সপ্তাহের দামেই ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে গতকালও।
এদিকে গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হয়েছে সব ধরনের চাল। তবে মোটা চালের দাম কেজিতে ১ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন মালিবাগের চাল ব্যবসায়ী দিদার হোসেন। তিনি বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে চালের যে বাড়তি দাম ছিল গত সপ্তাহে তা কমেছে। এ সপ্তাহে মোটা চালও কেজিতে ১ টাকা কমে বিক্রি করছি।’
বাজারে আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। প্রতি কেজি রুই আকারভেদে ২২০-৪০০ টাকা, কাতল ৩৫০-৪২০, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০, শোল ৬০০, পাবদা ৪৫০-৫০০, ট্যাংরা ৫০০-৬৫০ এবং শিং ৪০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বেশি দামি মাছের মধ্যে মাগুর ৭০০-৮০০ টাকা, বোয়াল ৫০০-৮০০, চিতল ৫০০-৮০০ এবং আইড় ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
তবে ইলিশের দামে তেমন কোনো ফারাক দেখা যায়নি। আগের মতোই ছোট আকারের এক হালি ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মাঝারি আকারের দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা এবং এক কেজি ওজনের এক হালি ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে গতকাল।
এদিকে সবজির বাজারেও স্বস্তি লক্ষ করা গেছে কাঁচাবাজারে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় বাজারে মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকায় মিলছে বেশিরভাগ সবজি। লাউয়ের পিস মানভেদে ৪০-৫০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ১৫-২০ টাকা, বেগুন ২০-৩০ টাকা, ফুলকপি ১০-১৫ টাকা পিস, বাঁধাকপি ১৫-২৫ টাকা, শালগম ১০-২০ টাকা কেজি, মুলা ১০-২০ টাকা, পাকা টম্যাটো ১৫-৩০ টাকা, নতুন আলু ১৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে বরাবরের মতো গতকালও করলার দাম ছিল অন্য সবজির চেয়ে একটু চড়া। বাজারে প্রতি কেজি করলা ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজারে সব ধরনের শাক বিক্রি হচ্ছে ৫-১৫ টাকা আঁটি। পালং শাক বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা আঁটি, লাল ও সবুজ শাকের দামও একই। লাউশাক পাওয়া গেছে ২০-৩০ টাকা আঁটি। তবে বাজারভেদে ৪০ টাকা আঁটিও বিক্রি হতে দেখা গেছে এ সবুজ শাক।
আগের দামেই বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ, আদা ও রসুন। কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজ ২৫ টাকা, আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ২২ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে রসুনের দাম ছিল কিছুটা চড়া, কেজিতে বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা এবং আদা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
গরমের আগাম সবজি হিসেবে ঝিঙে ৮০ টাকা ও চিচিঙ্গা ৭০ টাকায় পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘গরমের সবজি, গরমের আগেই বাজারে আসছে। নতুন সবজি তাই ক্রেতা বেশি বলে দামও বেশি, তা ছাড়া স্বাদও বেশি।’
রাজধানীর বাজারগুলোতে গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গরুর মাংস আগের মতোই বাজারভেদে ৪৮০-৫০০ টাকা কেজি এবং খাসির মাংস ৬৫০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে এ সপ্তাহে।
অপরিবর্তিত রয়েছে মুদি পণ্যের দামও। বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ২৮ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, চিনি আমদানি করা ৫০ টাকা, দেশি চিনি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৮৫ টাকা, মুগ ১১০ টাকা, মটর ৬০ টাকা, ছোলা ৮০ টাকা, ডাবলি ৪২ টাকা, লবণ ৩০-৩৫ টাকা, পোলাউর চাল ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা, সুপার ৬২ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর ব্র্যান্ডভেদে ৫ লিটারের তেলের বোতল বিক্রি হয়েছে ৪৬০-৪৮০ টাকায়। আর খোলা তেল ভালোটা বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা দরে। সরিষার তেল প্রতি কেজি ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্যাকেট দুধ ৩৬০-৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষকে ভোগাচ্ছে ডিম। ৯০ টাকা ডজনের ডিম এখন ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। হাঁসের ডিমও ডজনে বেড়েছে ৫ টাকা। গতকাল হাঁসের ডিম বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ১৭০ টাকা ডজন বিক্রি হতে দেখা গেছে।