রাজনীতি ও ক্রিকেটের মিশ্রণ ‘দুর্ভাগ্যজনক’

জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশ দুটির ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও। তবে রাজনীতির সঙ্গে ক্রিকেটকে এভাবে মিশিয়ে ফেলাটাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে দেখছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এহসান মানি।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত শাসিত কাশ্মীরে ওই হামলায় দেশটির আধাসামরিক বাহিনীর ৪০ জনের বেশি সেনা সদস্য নিহত হয়। এ ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তান জড়িত বলে শুরু থেকেই অভিযোগ ভারতের। কিন্তু এমন অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছে ইসলামাবাদ। এর প্রেক্ষিতে দেশ দুটির মধ্যে চলছে চরম উত্তেজনা।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে বয়কট করার ব্যাপারে একাট্টা হয়ে নেমেছে ভারতীয় ক্রিকেটের অনেকে। সন্ত্রাসবাদে মদতদানকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্রিকেটীয় সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাকে আহ্বান জানিয়ে চিঠি লেখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই।

ক্রিকেট ও রাজনীতিকে এভাবে মিশ্রণ করার প্রচেষ্টাকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না মানি, “এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, রাজনীতি ও ক্রিকেটকে মিশ্রণ করে ফেলা হচ্ছে। এমনটা কোনো খেলার জন্যই ভালো নয়।”

এক্ষেত্রে বর্ণবাদ বিরোধী কিংবদন্তি নেতা, নোবেল পুরস্কার জেতা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার কথা মনে করিয়ে দিলেন পিসিবি প্রধান, “‘ম্যান্ডেলা একবার বলেছিলেন, খেলাধুলার গর্জন যেকোনো রাজনীতিবিদের দেয়ে বেশি।’ খেলাধুলার নিজস্ব নিয়মকানুন আছে। রাজনীতিরও নিজস্ব গতিধারা আছে। এই দুটির মিশ্রণ হতে পারে না।”

বর্তমান অবস্থায় বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে কোনো চিঠি পেয়েছেন কি-না, কোনো চিঠি প্রত্যাশা করছেন কি-না-এমন প্রশ্নে পিসিবি প্রধানের জবাব, “কেন আমাদের চিঠি গ্রহণ করা উচিত? অবশ্যই, আমরা কোনো চিঠি গ্রহণ করিনি।”

“এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না। দেখা যাক, আইসিসি বা বিসিসিআই কোনো সিদ্ধান্ত নেয় কি-না। তখনই কেবল আমরা আমাদের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করতে পারি।”