মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেহেরপুরের আইনজীবীরা। রোববার মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আইনজীবীদের এক সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইনজীবীরা অভিযুক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ গাজী রহমানের অপসারণ ও সন্তোষজনক প্রতিকার না পাওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য তার আদালত বর্জন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত ও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রোববার মেহেরপুর জেলা জজের অপসারণ দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টায় মেহেরপুরের আইনজীবীরা মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে সাধারণ সভায় অংশ নেন।
মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইব্রাহিম কাদের শাহিনের সভাপতিত্বে এ সভায় আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় ২০ জন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বক্তব্য দেন।
বক্তারা সকলেই বিচারক মোহাম্মদ গাজী রহমানের (জেলা জজ) বিরুদ্ধে অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে বক্তব্য দেন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে এই সভা। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জজের অপসারণ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য জজ আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম জানান, জেলা জজের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এটা। জজ আইনজীবীদের সঙ্গে সব সময় অসম্মানজনক আচরণ করতেন। তিনি বিচারকাজকে আইনি দৃষ্টিতে না দেখে নিজের স্বেচ্ছাচারী ও খামখেয়ালি দৃষ্টিতে দেখতেন। আদালত পরিচালনা করতেন নিজের খেয়ালখুশি মতো। বিচারকের এমন অবস্থার কারণে আইনজীবীদের সঙ্গে জজের দূরত্ব ক্রমেই বেড়ে ওঠায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ইব্রাহিম কাদের শাহিন জানান, বর্তমান জজ অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবীরা তার কোর্ট করবেন না। আইনজীবী সমিতির সাধারণ সভার এই সিদ্ধান্ত কেউ ভঙ্গ করলে সেই আইনজীবীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, সর্বশেষ ১৯ মার্চ একটি মামলায় একাধিক আইনজীবী আসামিপক্ষে ওকালতনামা দিয়ে জজ আদালতে মামলার শুনানিতে অংশ নেন। তখন এক মামলায় একাধিক আইনজীবীর অংশগ্রহণে জজ বিরোধিতা করে বসেন। এতে জজের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ করলে ওইদিনই নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা করে জজ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান জানান, মূলত আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এই সভায় হলেও ১৯ মার্চ থেকেই জেলা জজ আদালত বর্জন করে চলেছেন আইনজীবীরা।
তিনি দাবি করে বলেন, বার এবং বেঞ্চের মধ্যে সম্পর্ক পূর্বের ন্যায় ভালো করতে হলে এই জজের অপসারণ খুবই জরুরি আজ। অন্যথায় আইনজীবীদের চাইতে বিচারপ্রার্থী মানুষ ন্যায় বিচার থেকে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।