এই দিনে

২৫ ফেব্রুয়ারি

ইংরেজ সংগীতজ্ঞ, গীতিকার, গায়ক ও বিশ্বখ্যাত গানের দল ‘দ্য বিটলস’-এর লিড গিটারিস্ট জর্জ হ্যারিসন ১৯৪৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই সংগীতানুরাগী হ্যারিসন বালক বয়সেই গিটার বাদনে দক্ষতা অর্জন করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্কুলের লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে ইলেক্ট্রেশিয়ানের চাকরি নিয়েছিলেন তিনি। এ সময়ই তিনি ‘দ্য বিটলস’ ব্যান্ডের সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। জর্জ হ্যারিসন ১৯৫৮ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পল ম্যাককার্টনি, জন লেনন প্রমুখের সঙ্গে সেই সময়ে বিশ্বজোড়া কিংবদন্তিতে পরিণত হওয়া এই ব্যান্ডের সদস্য ছিলেন। ‘দ্য বিটলস’-এ সদস্য থাকাকালেই হ্যারিসন ভারতীয় সংগীতের সঙ্গে পরিচিত হন এবং ভারতীয় সংস্কৃতি ও সংগীতের প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়েন। ‘দ্য বিটলস’ ছাড়ার আগেই হ্যারিসন নিজের দুটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন। ‘ওয়ান্ডারফুল মিউজিক’ ও ‘ইলেক্ট্রনিক সাউন্ড’ শিরোনামের অ্যালবাম দুটি ছিল মূলত যন্ত্রসংগীত এবং দুটিই ভারতীয় ও পশ্চিমা সংগীতের যুগলবন্দি। দুটি অ্যালবামেই হ্যারিসনের সঙ্গে পণ্ডিত শিব কুমার শর্মা ও আশীষ খাঁন বাজিয়েছেন। খ্যাতনামা এই শিল্পী পরবর্তী সময়ে নিজের লেখা গান এবং নিজের কণ্ঠে আরও দশটি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেন। এগুলো হচ্ছেÑ অল থিংস মাস্ট পাস, লিভিং ইন দ্য ম্যাটেরিয়াল ওয়ার্ল্ড, ডার্ক হাউস, এক্সট্রা টেক্সচার, থার্টি থ্রি অ্যান্ড ওয়ান বাই থ্রি, জর্জ হ্যারিসন, সামহোয়্যার ইন ইংল্যান্ড, গন ট্রপ্পো, ক্লাউড নাইন ও ব্রেইন ওয়াশড। বিখ্যাত বাঙালি সেতার বাদক পণ্ডিত রবিশংকরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জর্জ হ্যারিসন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে এগিয়ে আসেন এবং দুনিয়ার খ্যাতনামা গায়ক-গায়িকা ও ব্যান্ডগুলোকে নিয়ে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।  নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১ আগস্ট ১৯৭১ আয়োজিত এই কনসার্ট শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয় বরং দুনিয়ার সংগীত ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণউদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। হ্যারিসনের গাওয়া ‘বাংলাদেশ’ গানটি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এই মহান সংগীতজ্ঞ ২০০১ সালের ২৯ নভেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে মৃত্যুবরণ করেন।