অজ্ঞাত রোগে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৪

ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের ভান্ডারদহ মরিচ পাড়া গ্রাম। এই গ্রামে গত  ১৫ দিনে অজ্ঞাত রোগে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা এখন আলোচিত।

এর মধ্যে গত রবিবার মারা গেছে দুই ভাই। আক্রান্ত হয়েছে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৪ জন। মৃত্যু আতঙ্ক এখন তাড়া করছে ওই গ্রামের মানুষকে। অজ্ঞাত এই রোগ এড়াতে কেউ কেউ দৌড়াচ্ছেন  ওঝা-কবিরাজের কাছে। নিচ্ছেন ঝাড়ফুঁক আর পানি পড়া।

তবে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই জানিয়ে আক্রান্তদের নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ডা. শাহজাহান নেওয়াজ।

কখনো তীব্র জ্বর, কখনো ঠান্ডা, গোটা শরীরে ব্যথা আর জ্বালা পোড়া-এমন উপসর্গ নিয়ে বালিয়াডাঙ্গীর মরিচপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলী ও তার ছোট ভাই মেহেদি হাসানকে রবিবার সকালে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইউসুফ  মারা যায়। আর তার ছোট ভাই মেহেদী হাসান রংপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতে মারা যায়।

এদিকে জ্বর ও ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি মারা যায় ইউসুফের মা হোসনে আরা  ও ভগ্নিপতি হাবিবুর রহমান। এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় ইউসুফের বাবা আবু তাহের। জামাইসহ একই পরিবারের ৫ সদস্য একে  একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরায় এলাকায় নামে মৃত্যু আতঙ্ক।

ওই পরিবারের আরো ৩ জন ও প্রতিবেশী একজন আক্রান্ত হওয়ায় পুরো এলাকা যেন সুনসান। ওই এলাকায় কমে গেছে মানুষের উপস্থিতিও।

আক্রান্তরা হলো: মৃত ইউসুফের স্ত্রী কোহিনুর বেগম, ছেলে আবির হোসেন, শ্বশুর রবিউল ইসলাম এবং প্রতিবেশী সালমা বেগম। এদের মধ্যে সালমা ওই গ্রামে স্থানীয় ভাবে ঝাড়ফুঁক চিকিৎসা নিচ্ছে। অন্যরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

ওই গ্রামের জয়নাবা বেগম আতঙ্কিত হয়ে জানায়, ওরা মারা গেল, আমরাও মরি নাকি এই ভয় এখন আমাদের মাঝে। খাওয়া-দাওয়া এখন বন্ধ। ছেলে মেয়ে নিয়ে রাত জেগে থাকি। জ্বর আর ব্যথায় আক্রান্ত সালমা খাতুন জানায়, সকাল থেকে শরীরে প্রচুর ব্যথা অনুভব হচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গী চেয়ারম্যান ধনতলা ইউনিয়ন পরিষদ সমর কুমার চ্যাটার্জি বলেন, একের পর এক মারা যাওয়ার ঘটনায় এলাকার লোকজন আতঙ্কিত। ওই বাড়ির আশপাশে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে মাস্ক পরে চলাফেরার করার আহ্বান জানিয়ে ওই এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।

নতুন করে কেউ আক্রান্ত হলে দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহজাহান নেওয়াজ জানান, রোগ নির্ণয়ে ঢাকার রোগ তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ৫ সদস্যের একটি টিম ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন। তারা এলেই জানা যাবে ঘটনার বিস্তারিত।