রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিদগ্ধ আরো ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আনোয়ার হোসেন (৫০) এবং সোহাগ(২০) নামের দুইজন সেমবার রাতে আইসিওতে মারা যায়। বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক সামন্ত লাল সেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে বুধবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
এর আগে এ ঘটনায় গুরুতর আহত মোট নয়জনকে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড থেকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দগ্ধদের ছয়জনকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। রাতে অবশিষ্ট তিনজনকে নেওয়া হয় আইসিইউতে। শনিবার সকালে দগ্ধদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দগ্ধদের শরীরের খোঁজখবরের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
সামন্ত লাল সেন জানান, আনোয়ার হোসেনের শরীরের ৬০ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল। শুরু থেকে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় রবিবার সকাল থেকে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার হোসেনের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলায়। তার বাবার নাম আলী হোসেন। পেশায় রিকশাচালক আনোয়ার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ছাতা মসজিদ এলাকায় তাহের হাজীর বাড়িতে পরিবারসহ বাস করতেন।
আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী হাজেরা বেগম জানান, তিন ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে বাস করতেন তারা। ঘটনার দিন দুপুর ১২টায় রিকশা নিয়ে বেরিয়ে যান আনোয়ার। রাত সাড়ে ৯টায় বড় মেয়ে বিথী আক্তারকে ফোন করে বলেন বাড়ি ফিরছেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডের মুহূর্তে তিনি চুড়িহাট্টা মোড়ের জ্যামে খালি রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আগুন ছুটে এসে লাগলে মুহূর্তে ঝলসে যায় শরীর। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দৌড়ে বকশীবাজার মোড় পর্যন্ত আসেন। পরে সেখানে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়লে লোকজন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করায়।
সোহাগ কেরানীগঞ্জে বসবাস করতো। চুড়িহাট্টায় একটি পারফিউমের দোকানে কাজ করতো। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর।
বুধবার রাতেরই ওই অগ্নিকাণ্ডে এর আগে ৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। যদিও ঢাকা মেডিকেল থেকে ৬৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। তাদের হিসাবে এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৯।