আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন। এদিন উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নবগঠিত ৩৬টি ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলরও নির্বাচন করতে যাচ্ছেন ভোটাররা। প্রচারের জন্য প্রার্থীরা সময় পাবেন আগামীকাল রাত ১২টা পর্যন্ত। শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের মাঠে উত্তাপ নেই বললেই চলে। ভোটারদের মধ্যেও নেই উত্তেজনা।
গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নতুন ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলর প্রার্থীরা কিছুটা উত্তাপ ছড়ালেও মেয়রপ্রার্থীদের মধ্যে কেবল আওয়ামী লীগ মনোনীত আতিকুল ইসলাম কিছুটা প্রচারে রয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনগুলোর বিভিন্ন মতবিনিময় সভাতেই তার প্রচার সীমাবদ্ধ রয়েছে। দলীয় লোকদের বাইরে আমজনতার মধ্যে তেমন জনসংযোগ বা প্রচার কাজ চালাতে দেখা যায়নি তাকে। পোস্টার ছিল কম আর মাইকিংও চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে আতিকুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাইকের ব্যাপারে তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এমনিতেই অতিরিক্ত যানজট আর হর্নের কারণে ঢাকার মানুষ বিরক্ত। মাইকিং ছাড়া কী হয় তিনি দেখতে চান। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী শাফিন আহমেদকে খুব সীমিতভাবে প্রচারে দেখা গেছে।
ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই। গতকাল কথা হয় তেজগাঁওয়ের মনিপুরিপাড়ার বাসিন্দা মেহেদি হাসানের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমজনতার মধ্যে নির্বাচনের কোনো উত্তেজনা নেই। জিজ্ঞেস করলে অনেকে বলতেও পারবে না নির্বাচন কবে। আমি কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করছিলাম। তারা বলে কিসের নির্বাচন, নির্বাচন হয়ে গেছে না?’ তিনি বলেন, তাদের এলাকায় বা বাসায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী ভোট চাইতে বা লিফলেট বিতরণ করতে আসেনি। জাতীয় নির্বাচনের সময় একটা অফিস করেছিল, সেটাতেই নৌকার পোস্টার লাগিয়ে গানটান বাজানো হচ্ছে। প্রচার বলতে এতটুকুই।
একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরি করেন আমজাদ রিয়াদ। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা তিনি। এলাকাটি নবগঠিত ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে পড়েছে। মেয়রের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো কাউন্সিলরও নির্বাচন করবে সেখানকার ভোটাররা। এলাকায় ভোটের অবস্থা জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘মেয়রেরটা দেখি না, কিন্তু কাউন্সিলরদের প্রচার চলছে। সারা দিন মাইক চলে। কিন্তু পাবলিকের মধ্যে এত উন্মাদনা নেই। এই এলাকায় ২৫ শতাংশের বেশি ভোট কালেক্ট হবে না।’
এত কম ভোট পড়ার ধারণার পেছনের কারণ জানতে চাইলে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘তারা নিজেরা নিজেরা প্রার্থী। কে পাস করবে সবাই জানে। তাই মানুষের আগ্রহ কম।’ তবে নিজেরা প্রার্থী হওয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে দাবি করেন তিনি।
দক্ষিণখানের ঘাওয়াইর এলাকার বাসিন্দা খোরশেদ আলম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেয়রপ্রার্থী আতিকুল আজই মাত্র আমাদের এলাকায় আসছেন। এর আগে কেউ আসেননি। এমনিতে কাউন্সিলর প্রার্থীরা আসছেন।’ বাড্ডার বাসিন্দা রেজোয়ান খান জানান, ‘মেয়রদের কোনো ব্যানার পোস্টার তেমন দেখিনি। কাউন্সিলরদের দেখেছি।’
ফার্মগেটের রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, ‘আগে যে রকম একটা আমেজ ছিল, সেটা এখন আর নেই। আর স্বাভাবিকভাবে ওরা জিতবে এমন একটা টেনডেন্সি হয়ে গেছে। আমরা তো জিতবই। তাই সরকারদলীয়দের মধ্যেও তেমন উত্তেজনা নেই।’