সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪

সুন্দরবনে কথিত বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত হয়েছে। যারা বনদস্যু বলে র‌্যাবের ভাষ্য। গতকাল সোমবার সকালে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জে জোংড়া খাল এলাকায় গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে বলে র‌্যাব-৮-এর অধিনায়ক আতিকা ইসলাম জানিয়েছেন।

এদিকে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার টাউসারা এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তোফাজ্জল হোসেন ওয়াজেদ নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

সুন্দরবনে নিহতরা হলো বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার নামারচর গ্রামের সোহেল হাওলাদার, রুবেল হাওলাদার, হালিম হাওলাদার ও রাজু। এদের বয়স ২২ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

র‌্যাব কর্মকর্তা আতিকা বলেন, ‘জোংড়া খাল এলাকায় বনদস্যু আরিফ বাহিনীর সদস্যদের অবস্থানের খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। তারা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করলে র‌্যাব পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় আধাঘণ্টা গোলাগুলির পর বনদস্যুরা পালিয়ে গেলে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে চারজনের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। সুন্দরবনের জেলেরা তাদের আরিফ বাহিনীর সদস্য বলে শনাক্ত করেন।’

ঘটনাস্থল থেকে ‘বেশ কয়েকটি’ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে দাকোপ থানায় দুটি মামলা করেছে বলে জানান তিনি। এই র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, আরিফ নামে এক ব্যক্তি সম্প্রতি ১০-১২ জনকে নিয়ে নিজ নামে বাহিনী গঠন করে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। গোলাগুলির মধ্যে পড়ে বাহিনীপ্রধান আরিফ ও তার তিন সদস্য নিহত হয়েছে।

জয়পুরহাটে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত : জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার টাউসারা এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তোফাজ্জল হোসেন ওয়াজেদ নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে র‌্যাব। তবে নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর দাবি, তার স্বামী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হননি। তাকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল সাদা পোশাকের লোকজন।

তোফাজ্জল হোসেন ক্ষেতলাল উপজেলার উত্তর মহেশপুর গ্রামের সরকারপাড়ার প্রয়াত ওয়াদুদ সরকারের ছেলে। গত রবিবার গভীর রাতে তার সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাহিনীর দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে র‌্যাব দাবি করেছে। র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক ও সহকারী পুলিশ সুপার আজমল হোসেন জানান, ক্ষেতলাল উপজেলার টাউসারা এলাকায় মাদকের একটি বড় চালানের কেনাবেচা চলছে বলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে র‌্যাব। পরে জয়পুরহাট র‌্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ওই সময় উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবের টহলগাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে তোফাজ্জল গুলিবিদ্ধ হন; অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে তোফাজ্জলকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, একটি গুলি ও ১৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। তোফাজ্জলের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন থানায় ১২ থেকে ১৩টি মাদক, ছিনতাই ও চোরাচালানের মামলা রয়েছে।

স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যা ৭টার পর আমার স্বামী তোফাজ্জল বটতলী বাজারে ওষুধ কিনতে গেলে সাদা পোশাকের কয়েকজন লোক তাকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় থানা ও জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অফিসগুলোতে খোঁজাখুঁজি করলেও তাকে গ্রেপ্তার করেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। গতকাল সোমবার সকালে আমাকে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য খবর দেয়। আমি গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখি। আমার ধারণা, আমার স্বামী বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়নি।’