যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক শুল্কারোপের সিদ্ধান্তে ২০১৮ সালে বড় ধরনের পতন নামে চীনা পুঁজিবাজারে। সেই ধাক্কায় গত এক বছরে বিলিয়নিয়ারের তালিকা থেকে খসে পড়েছে ১৬১ চীনা নাগরিকের নাম। এর হাওয়া লাগেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নিয়ারদের গায়ে। চীনের পতনের বছরে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সম্পদশালীদের এ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন। তবে এখনো বিলিয়নিয়ারের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বৃহত্তর চীন, যেখানে চীনের মূল ভূ-খ-ের সঙ্গে তাইওয়ান ও হংকংয়ের বিলিয়নিয়ারদেরও চীনা নাগরিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সিএনএন বিজনেস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সম্পদের তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্ট ২০১৯’ নামে এক প্রতিবেদন গতকাল প্রকাশ করেছে। তাতে এ তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। ১০০ কোটি ডলারের সম্পদের মালিকদের বিলিয়নিয়ার বলা হয়। অর্থাৎ, বাংলাদেশি মুদ্রায় তারা প্রত্যেকেই কমপক্ষে আট হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে ৬৭টি দেশে মোট বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা দুই হাজার ৪৭০ জন। এর মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে চীনের পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধস নামায় দেশটির বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ কমে গেছে। গত বছর দেশটির পুঁজিবাজারে পতন হয়েছে ২৫ শতাংশ, এই সময়ে দেশটির মুদ্রা ইউয়ান ডলারের বিপরীতে দর হারিয়ে। ২০১৮ সাল শেষে চীনে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ৮১৯ থেকে কমে ৬৫৮-তে নেমেছে। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ জন বেড়ে হয়েছে ৫৮৪।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের বছর বিলিয়নিয়ার তালিকায় যারা ছিলেন, তাদের মধ্য থেকে ৪৩০ জন এবার বাদ পড়েছেন। এর মধ্যে চীনের ২১৩ জন, ভারতের ৫২ জন। নতুন করে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ২০১ জন। এর মধ্যে চীনের ৫২ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯ জন ও ভারতের ২৩ জন। ফলে সব মিলিয়ে এখন বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা দু’ হাজার ৪৭০ জন। এটি গতবারের চেয়ে ২২৪ জন কম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি বিলিনিয়নিয়ার রয়েছে জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ভারতে।
শীর্ষ ধনীর তালিকায় বরাবরের মতো এবারও রয়েছেন আমানজের জেফ বাজোস। গত বছর তিনি ২৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেন। প্রতিকূল অবস্থা সত্ত্বেও ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ ও গুগলের সার্জেই ব্রিন শীর্ষ ১০ সম্পদশালীর তালিকায় রয়েছেন। চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি আলিবাবার জ্যাক মা ৩৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে চার ধাপ এগিয়ে ১৮-তে উঠেছেন। স্পেসেক্স-এর দর বাড়ায় ইলন মাস্ক ১০ ধাপ এগিয়ে শীর্ষ ২০-এ জায়গা করে নিয়েছেন। তার সম্পদের পরিমাণ ২৮ বিলিয়ন। প্রথমবারের মতো ভারতীয় হিসাবে রিলায়েন্সের মুকেশ আম্বানী বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকায় ঢুকেছেন। ৫৪ বিলিয়ন ডলারের মালিকানা থাকা আম্বানীর সম্পদ গত বছর বেড়েছে ২০ শতাংশ। এবছর বিশ্বের অষ্টম শীর্ষ ধনীর খেতাব পেয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে ৪০ জন বিলিয়নিয়ার মারা গেছেন, এক হাজার ২৪৬ জনের সম্পদ কমেছে। বেড়েছে ৭৬৯ জনের সম্পদ। এবার বিলিয়নিয়ার তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ২০১ জন। এর মধ্যে চীনের ৫২ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯ জন ও ভারতের ২৩ জন।
বিলিনিয়ারদের তালিকায় নারীর সংখ্যা গতবার ছিল ৫৯, এবার ৫৬। বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে ৬৫ শতাংশই নিজে সম্পদ আয় করে বড়লোক হয়েছেন। বাকি ৩৫ শতাংশ উত্তরাধিকার সূত্রে এ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। বিলিনিয়ার তালিকায় থাকা ৮৫ জনের বয়স ৪০ বা তার কম।