চট্টগ্রামে ভাঙল বইয়ের মেলা

আবার এক বছরের প্রতীক্ষায় শেষ হলো চট্টগ্রামের অমর একুশে বইমেলা। বন্দরনগরে বইয়ের এ জমজমাট আয়োজনের আবেদন ছিল অন্যরকম। সারা দিনের ব্যস্ততা শেষে বইপ্রেমীরা একবার হলেও ঢু মেরেছেন মেলা চত্বরে। ২১ দিনে মেলায় বিক্রি হয়েছে ১৩ কোটি টাকার বই। নগরের স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে এ আয়োজন করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। পাঠক-প্রকাশকদের দাবিতে ১৯ দিনের মেলা গড়ায় ২১ দিনে। গতকাল শনিবার সমাপনী দিনে ছিল ক্রেতা-দর্শনাতর্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

চট্টগ্রামে মেলায় বই বিক্রিতে এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। রাদিয়া প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী গোফরান উদ্দিন টিটু বলেন, ‘আগের মেলায় বই বিক্রি হবে কি না ভাবতাম। এবার পাঠকদের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খেতে হয়েছে। অনেক ভালো বিক্রি হয়েছে। এই মেলা অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল।’ প্রায় ১৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে জানিয়ে মেলার সদস্য সচিব সুমন বড়–য়া বলেন, ‘পাঠকের এমন সাড়ায় প্রকাশকরা খুবই খুশি।’ ইউপিএলের বিক্রয়কর্মী রাহুল মজুমদার জানান, অনুবাদ সাহিত্য ও শিশুতোষ বইয়ের বিক্রি বেশি হয়েছে।

কলেজছাত্রী অনিমা রুদ্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্লাস পরীক্ষা টিউশন শেষে বান্ধবীরাসহ আসতাম। বই যেমন কিনেছি তেমনি প্রিয়জনদের থেকে উপহারও পেয়েছি। লিস্টে যা বাকি ছিল তা শেষ দিনে কিনলাম।’ বেসরকারি চাকরিজীবী পঞ্চাশোর্ধ্ব রিমি ইসলাম বলেন, ‘এই বইমেলা আমার বন্ধুদের একসাথে করেছে। প্রতিদিন সবাই আসতাম, স্টল ঘুরে পছন্দের বই কিনতাম। খুব খারাপ লাগছে এই মিলনমেলার সমাপ্তি দিনে। কারণ চট্টগ্রামে এমন বৃহৎ পরিসরে বইমেলা আর হয়নি।’

প্রকাশকদের আগ্রহ ও বইপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস দেখে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আগামী বছর থেকে মেলার পরিধি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ ব্যাপারে স্কুলশিক্ষিকা করুণা সিনহা বলেন, ‘আগামীবার পরিধি বাড়িয়ে বাংলা একাডেমির মতো বড় আয়োজনে মেলা হবে শুনেছি। এতে খুব ভালো লাগছে, ভাষার মাসে ঢাকার মতো চট্টগ্রামে বইয়ের এমন প্রদর্শনী জরুরি।’