যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসিত হওয়ার বিষয়টি এখন তাত্ত্বিক সম্ভাবনার চেয়ে অনেকটা এগিয়ে গেছে। স্থানীয় সময় সোমবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ তদন্ত শুরু করার কথা ছিল বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির। এ তদন্ত জটিল প্রক্রিয়ায় রূপ নিতে পারে। এর অংশ হিসেবে ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন সরকার, তার পরিবার ও রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্যের নথি চাওয়ার কথা রয়েছে।
সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেনের সাক্ষ্যে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নড়বড়ে হয়েছে। এর মধ্যেই জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে শিগগিরই। এমন বাস্তবতায় ডেমোক্র্যাটদের তৎপরতায় গত রবিবার রাতে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে নিজ অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমাদের দেশের ইতিহাসে প্রেসিডেন্টকে “উন্মত্ত” ডেমোক্র্যাটদের হয়রানি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একইভাবে এমন চরম বিদ্বেষী ও দুর্নীতিবাজ মূলধারার গণমাধ্যমেরও মুখোমুখি হতে হয়নি কোনো প্রেসিডেন্টকে।’
সিএনএনের খবরে জানানো হয়, ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান জেরি ন্যাডলার অভিশংসনের সম্ভাব্য প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেবেন। গত রবিবার তিনি প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বিষয়ে কংগ্রেসের তদন্তের ইঙ্গিত দেন। নিউ ইয়র্কের এই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ৬০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসংক্রান্ত নথি চাওয়ার অনুরোধের পরিকল্পনা করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের ‘দিজ উইক’ অনুষ্ঠানে ন্যাডলার বলেন, এসব নথির মাধ্যমে ‘আমেরিকার জনগণের সামনে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করা, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হবে’। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের বিষয়টি অনেক পরে আসবে। ন্যাডলারের মতে, তিনি এখন পর্যন্ত মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে একে অভিশংসনের সম্ভাব্য কারণ মনে করা হয়।
ন্যাডলারের দায়িত্ব ও ক্ষমতার কারণে তার হুমকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও আইনি দুঃস্বপ্নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর ফলে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বাদানুবাদও মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর সর্বশেষ এ ধাক্কা হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। কারণ মুলারের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রতিবেদনও জমা দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে।
ন্যাডলারের নেতৃত্বাধীন তদন্ত ছাড়াও ট্রাম্পের দপ্তর নিয়ে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের ওভারসাইট অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স কমিটির আরেকটি তদন্ত যুগপৎভাবে চলবে। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, একদিকে কংগ্রেস থেকে ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে চলবে রাজনৈতিক তদন্ত। অন্যদিকে মুলারের নেতৃত্বে চলবে আইনি তদন্ত।
গত সপ্তাহে কোহেনের সাক্ষ্যর মধ্য দিয়ে অংশত পরিষ্কার হয়েছে যে, মুলার সরাসরি ট্রাম্পের অসদাচরণ না পেলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের আইনি ঝামেলা গভীর হবে। এসব ঘটনায় ট্রাম্পের মধ্যেও দুশ্চিন্তার লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।