আধঘণ্টা ব্যাহত হয় কাদেরের চিকিৎসা

সুলভ একটি যন্ত্রের অভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ব্যাহত হয়েছিল হৃদরোগে গুরুতর অসুস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসাসেবা।

হাসপাতালের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে জানান, সুলভ এই যন্ত্রের নাম ইন্ট্রা অ্যারোটিক বেলুন পাম্প  (আইএবিপি)। হৃদরোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই যন্ত্রটি নেই বিএসএমএমইউ হাসপাতালে। ফলে গত রোববার ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা প্রায় আধঘণ্টা ব্যাহত হয়।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, পরে বিশেষায়িত একটি প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে জরুরি ভিত্তিতে যন্ত্রটি এনে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়, যার ফলে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বিএসএমএমইউর হৃদরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আহসান আলীর তত্ত্বাবধানে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা চলে। যন্ত্রটির বিষয়ে জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, আইএবিপি যন্ত্রটি নেই এ তথ্য ঠিক নয়। যন্ত্রটি ছিল, তবে নষ্ট ছিল। এ জন্য চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন হয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, তেমন হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে আইএবিপি এনে মন্ত্রীর চিকিৎসা চালাই।

দলের সাধারণ সম্পাদককে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে আইএবিপি নেই জানতে পেরে বিএসএমএমইউ কর্র্তৃপক্ষের ওপর ভীষণ ক্ষেপে যান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। কারণ বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল হচ্ছে বিএসএমএমইউ। সেখানে উপস্থিত এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে আরও জানান, শেখ হাসিনা কর্র্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান এই মেশিনের দাম কত? কেনই-বা নেই। মূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা জানালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই মেশিনটির ব্যবস্থা করুন। ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।  

যন্ত্রটির কাজ কী জানতে চাইলে সৈয়দ আহসান আলী বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে এই যন্ত্রটি ব্যবহারের মাধ্যমে রক্তের প্রবাহ দেওয়া হয়। যখন হৃদপিন্ডে রক্তবাহী ধমনি ব্লক হয়ে যায় তখন যন্ত্রটি ব্যবহার করলে রক্তনালি কিছুটা সচল করা হয়। 

বিএসএমএমইউর হৃদরোগ বিভাগের এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওবায়দুল কাদেরের যে অবস্থা ছিল তাতে এ যন্ত্রটি তাৎক্ষণিক ব্যবহার না করায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে অল্প সময়ে যন্ত্রটির ব্যবস্থা করতে পারায় ঝুঁকিমুক্ত হওয়া গেছে। ওই চিকিৎসক বলেন, মেশিনটি নষ্ট আমার জানা নেই, আমি জানি বিএসএমএমইউতে এই যন্ত্রটি নেই।