স্থায়ী চিকিৎসা নেই বৃক্ষমানবের

দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত বৃক্ষমানব নামে পরিচিত আবুল বাজানদারের স্থায়ী চিকিৎসা নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বারবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শেকড় অপসারণ করতে হবে বলে জানান তারা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কেবিনের অভাবে এই চিকিৎসাও সুষ্ঠুভাবে করানো সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাজানদার।

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন জানান, বাজানদার এপিডার্মো ডিসপ্লেশিয়া ভেরুকোফরমিস ভাইরাসে আক্রান্ত। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘এ রোগ একেবারে নিরাময় হবে না। বিশ্বের কোথাও এই রোগের কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। কিছুদিন পরপরই অপারেশন করতে হবে।’

এদিকে ঢামেকে কেবিন না পেয়ে চিকিৎসার জন্য বাড়ি থেকে আসতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বাজানদার। গতকাল সোমবার তিনি বলেন, আমার যে রোগ, তাতে কেবিন ছাড়া থাকা সম্ভব নয়। হাসপাতাল থেকে আমার কেবিনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। গত শনিবারও ডাক্তার সামন্তলাল সেনকে ফোন করেছি কেবিনের জন্য। তিনি বলেছেন ব্যবস্থা হলে জানাবেন।

কেবিন না পাওয়ার বিষয়ে সামন্তলাল বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রত্যেকটি কেবিনে লোক রয়েছে। কাউকে তো বের করে দেওয়া যায় না। কোনো একটি কেবিন খালি হলেই তাকে (বাজানদার) দেওয়া হবে।’

শরীরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বাজানদার বলেন, ‘আমার হাতে আবারও আগের মতোই শেকড় গজিয়েছে। খুব কষ্ট হচ্ছে বেশ কদিন। আমি উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা নিলে আমি সুস্থ হব বলে আশা করছি।’

প্রসঙ্গত, পেশায় ভ্যানচালক আবুল বাজানদারের প্রথমে আঁচিল হয়। ধীরে ধীরে তা ছড়াতে থাকে। হাত-পায়ে গাছের শেকড়ের মতো অতিরিক্ত অংশ নিয়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হন আবুল বাজানদার। তার চিকিৎসার জন্য পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্দেশ দেন আবুলের সব খরচ রাষ্ট্রীয়ভাবে করার। এরপর থেকে তার থাকা-খাওয়া, ওষুধ, অপারেশনের সব খরচ বহন করছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ।

২০১৮ সালে মে মাসে কাউকে কিছু না বলেই বাড়ি চলে যান বাজানদার। আট মাস পর এ বছরের জানুয়ারিতে আবারও ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ফিরে আসেন। কেবিন না পাওয়ায় ৬ ফেব্রুয়ারি আবার গ্রামের বাড়ি খুলনার পাইকগাছায় ফিরে যান। যাওয়ার সময় চিকিৎসকদের জানান, ১৫ দিন পর ফিরে আসবেন। এরপর হাসপাতালে কেবিন না পাওয়ায় এখনো আসেননি তিনি।