ইরাকে আবারও আইএসের উত্থান

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক বছর আগেই ইরাক আইএস (ইসলামিক স্টেট) মুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু বহির্দেশ প্রভাবিত বাগদাদের প্রশাসন এবং দেশটির জেনারেলদের মধ্যকার দ্বন্দ্বে যেকোনো মুহূর্তে ইরাকে আগুন জ্বলে উঠতে পারে এমন সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। গতকাল মঙ্গলবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এরই মধ্যে আইএস যোদ্ধারা ইরাকে নতুন কৌশলে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এখন তারা উত্তর ইরাকের বিভিন্ন গ্রামে লুটপাট, নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা, রাস্তার ধারে বোমা পুতে রাখা এবং নতুন যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরাকের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। উত্তরের হামরিন পর্বতমালার গোটা অঞ্চলের দিনের দখল নিরাপত্তা বাহিনীর আর রাতের দখল এরই মধ্যে আইএস নিয়ে নিয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করছে ইরাকের আল-কায়েদা ফ্রন্ট। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন করে আইএস মাথাচাড়া দিলে আগের চেয়ে ভয়ংকর হবে। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা এবং ভুল থেকে এরই মধ্যে তারা অনেক কিছু শিখেছে।

আল তাহায়া গ্রামে গত কয়েকদিন আগেই ছয়জনকে গলা কেটে হত্যা করে আইএস যোদ্ধারা। কয়েক মাস পরপরই গ্রামে এমন হামলা চালায় সন্ত্রাসী সংগঠনটির সদস্যরা। প্রতিবারের হামলায় তারা অর্থ এবং অস্ত্র লুট করতে আসে। গ্রামের বাসিন্দা হাওয়াস জানান, সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর পোশাক পরে আসে।

২০১১ সালে ইরাক ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। শিয়াপন্থি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি দেশটির সুন্নিদের লক্ষ্য করে বেশকিছু ঘটনার জন্ম দেয় যা সুন্নিদের মধ্যে শিয়াবিরোধী চেতনাকে তীব্র করে। আইএস এই চেতনাকেই পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগায় মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলকে দখলে। ইরাকের নিনেভা প্রদেশে সরকারের মোট বাজেটের মাত্র ১ শতাংশ যায়। সরকার যুদ্ধবিধ্বস্ত প্রদেশগুলোতে চীন এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের জায়গা করে দিচ্ছে। কিন্তু ব্যবসায় জায়গা পাচ্ছে না স্থানীয় ইরাকিরা। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আবারও নতুন করে সশস্ত্র পন্থা অবলম্বনের ঝোঁক বাড়ছে বলেও জানা যায়।