মিলল নিখোঁজ বৃষ্টির লাশ

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন দুই বান্ধবী ফাতেমাতুজ জহুরা বৃষ্টি ও রেহনুমা তাবাসসুম দোলা। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অগ্নিকাণ্ডের আগমুহূর্তে তারা ওই স্থানেই ছিলেন। নানা জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে স্বজনরা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যদের কাছে ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড) নমুনা দেন। অবশেষে নমুনা মিলিয়ে শনাক্ত করা গেছে বৃষ্টির লাশ, এখনো খোঁজ মেলেনি দোলার। অগ্নিকাণ্ডে অঙ্গার হওয়া ১৯ লাশের মধ্যে ১১টির পরিচয় শনাক্ত করে গতকাল বুধবার বিকেল থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর শুরু করেছে সিআইডি।

শনাক্ত করা লাশের মধ্যে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও আবৃত্তিশিল্পী বৃষ্টি ছাড়াও রয়েছেন সালেহ আহমেদ লিপু, ইব্রাহীম, এনামুল হক, তানজিল, নাসরিন জাহান, শাহীন, আহসান, দুলাল, নুরুজ্জামান ও নুরুল হক। বাকি লাশের পরিচয় শনাক্তের অপেক্ষায় রয়েছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও আবৃত্তিশিল্পী দোলার স্বজনরা। বৃষ্টি ও দোলা পরস্পর বান্ধবী ছিলেন। শৈশবকাল থেকেই একসঙ্গে চলাফেরা করতেন তারা। ঘটনার দিন শিল্পকলা একাডেমিতে আবৃত্তি অনুষ্ঠান শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন বৃষ্টি ও দোলা।

বৃষ্টির ভাই সাব্বির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বুধবার বাদ এশা আজিমপুর কবরস্থানে বৃষ্টিকে দাফন করা হবে। একই রিকশায় থাকা দোলার সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।’ তবে আগুনে পোড়া বৃষ্টির লাশ পাওয়ায় দোলাকেও একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে বলে ধারণা করছেন সাব্বির।

লাশ শনাক্তের ব্যাপারে সিআইডির ক্রাইম সিনের ইন্সপেক্টর আবদুর রহিম বলেন, ‘১১টি লাশের স্বজনের সঙ্গে ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। বাকিদের শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে লাশ হস্তান্তর করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে প্রতি লাশের স্বজনকে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার আটজনের পরিবার লাশ নিতে এসেছে।’

গতকাল সিআইডির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে দুই ধাপে পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ধাপে ১৫টি মৃতদেহ হতে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি ও ৪৮ জন দাবিদারের ডিএনএ প্রোফাইল করা হয়। প্রথম ধাপ থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে ১১ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি চারজনের পরিচয় নির্ণয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। দ্বিতীয় ধাপে চারটি অজ্ঞাত মৃতদেহের হাড় হতে ডিএনএ পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টায় চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মোট ৭১ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ৬৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় চারজনের। নিহতদের মধ্যে ৪৮টি লাশের পরিচয় মেলায় তা হস্তান্তর করা হয়। বাকি ১৯টি লাশ পুড়ে অঙ্গার হওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে তাদের পরিচয় শনাক্তে দাবিদার স্বজনদের ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়।