মহাস্থানে চৌদ্দশ বছরের প্রাচীন নিদর্শন

বগুড়ার মহাস্থানগড়ে পাশাপাশি দুটি স্থানে প্রত্ত্বতাত্ত্বিক খননে বেরিয়ে এসেছে চৌদ্দশ বছরের প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন ও আড়াই হাজার বছরের পুরাতন শস্যবীজ। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নিজস্ব খননে পাল শাসনামলের স্থাপত্য কাঠামো এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি প্রতিনিধিদলের খননে শস্যবীজের সন্ধান পাওয়া গেছে।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মহাস্থানগড়ের বৈরাগীর ভিটায় এবং জাবি দল জাহাজঘাটা এলাকায় এই খননকাজ পরিচালনা করে। এরমধ্যে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের খনন ও সংস্কারকাজ এখনো চলমান থাকলেও জাবি প্রতিনিধিদল গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাদের খননকাজ সম্পন্ন করেছেন।

এবারের থেকে প্রাপ্ত প্রত্নসামগ্রী নিশ্চিত করেছে মহাস্থানগড় প্রাচীন যুগেও ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে ছিল সমৃদ্ধ। প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন নগরী ও প্রত্ত্বতাত্ত্বিক স্থান মহাস্থানগড়ে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে খনন ও সংস্কারকাজ শুরু করেছে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর। মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই খননকাজ চলমান থাকবে বলে খননকাজে নিয়োজিত প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

মহাস্থানগড় ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে খনন করা হয়েছে। খননের বিভিন্ন পর্যায়ে এখানে বেরিয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রত্ত্বনিদর্শন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স সরকার যৌথভাবে খননকাজ পরিচালনা করে আসছে।

মহাস্থান জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান এস এম হাসানাত বিন ইসলাম জানান, এবার খননকালে সেখানে স্থাপত্য শৈলীর পাশাপাশি বেশ কিছু প্রত্ত্ববস্তুর সন্ধান মিলেছে। তার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় উজ্জ্বল চকচকে কালো মৃৎপাত্র (এনবিপিডাব্লিউ), বিভিন্ন যুগের মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ, ক্ষুদ্রাকৃতির তৈলপাত্র, পোড়ামাটির বাটি, পাথরের পুঁতি ও পোড়া মাটির গুটিকা।

খনন দলের সদস্য ও প্রত্ত্বতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের শাহজাদপুর রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টডিয়ান মোহাম্মদ যায়েদ জানান, এবারের খননকাজে প্রত্ত্বতাত্ত্বিক বিভাগের সাত প্রতিনিধি ছাড়াও ২০ জন শ্রমিক কাজ করছেন।

এদিকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রত্ত্বতাত্ত্বিকদের একটি দল দুর্গের জাহাজঘাটা এলাকায় খনন পরিচালনা করে। জাবি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান জামির নেতৃত্বে ওই খননে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ শিক্ষার্থী। অধ্যাপক জামির উদ্ধৃতি দিয়ে কাস্টডিয়ান মোহাম্মদ যায়েদ বলেন, মহাস্থানগড়ের জাহাজঘাটায় মাটির ৪ দশমিক ৩ মিটার খনন করে প্রায় ১০ হাজার পুরাতন শস্যবীজ খুঁজে পেয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে ধান, মটরশুঁটি, মসুর, শিম, ছোলা, মুগডাল ও তুলা বীজ। এছাড়া ওই এলাকায় খননে বেরিয়ে এসেছে স্বল্প মূল্যবান পাথর, কাচের পুঁতি, টেরাকোটা বল, বোতলের ছিপি এবং উত্তর ভারতীয় কালো মসৃণ মৃৎপাত্রের মতো প্রত্নবস্তু। এখানে প্রাপ্ত খাদ্যশস্যগুলো প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো বলে ধারণা করছে খনন দল। প্রাপ্ত খাদ্যশস্যের নমুনাগুলোর ডিএনএ এবং আইসোটোপ বিশ্লেষণের পর ফসলের প্যাটার্ন, কৃষি পদ্ধতি, খাদ্যাভ্যাস ও প্রাচীন বাংলার সভ্যতার অন্যান্য নির্দেশক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন কাস্টডিয়ান মোহাম্মদ যায়েদ।