স্ত্রীর উপর প্রতিশোধ নিতেই শ্যালককে হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে স্ত্রীর উপর প্রতিশোধ নিতেই শ্যালক ইমনকে (১৩) শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দুলাভাই রফিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ এখতেখার উদ্দিন।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের ও সিনিয়র এডি চন্দন দেবনাথ।

র‌্যাব কর্মকর্তা এখতেখার জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সানারপাড় এলাকা থেকে রফিকুল ইসলামকে(৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার বড়াইল গ্রামের সামির উদ্দিনের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শ্যালক ইমনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন রফিকুল ইসলাম।

র‌্যাব জানায়, রফিক মাদকাসক্ত ও ছিনতাইকারী। ২০১৩ সালে রফিক নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি এলাকার রবিউল্লাহর মেয়ে মনিরা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে যৌতুকসহ নানা কারণে অত্যাচার-নির্যাতন করতেন। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মনিরা বাবার বাড়িতে চলে আসেন। স্ত্রীর উপর রাগ করে প্রতিশোধ নিতে শ্যালককে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

গত ১ তারিখে বিকেলে শ্যালক ইমন বাড়ির পাশের মাঠে ক্রিকেট খেলতে যাওয়ার পথে রফিক তাকে ডেকে নেয়। পরদিন শনিবার সকাল ১১টায় ধানি জমি থেকে ইমনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় রফিকুল ইসলামকে আসামি করে নবীনগর থানায় হত্যা দায়ের করা হয়। এরপর র‌্যাব গোয়েন্দারা বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। রফিক বারবার জায়গা বদল করার কারণে র‌্যাবকে খুব বেগ পেতে হয়।

গত তিন দিন না ঘুমিয়ে রফিককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান লে. কর্নেল এখতেখার।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যোবায়ের জানান, ইমনকে হত্যা করার জন্য দুলাভাই রফিক ২/৩ দিন এলাকায় অবস্থান করে সুযোগ খুঁজতে থাকে। খুনের পর তিনি নিয়মিত স্ত্রী মনিরার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। এমনকি মনিরাকেও খুন করার হুমকি দেয়।