আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তরুণীর

বাগেরহাটের রামপালে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে (২০) দিনের পর দিন ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের জুলফিকার আলী লুলু অডিটোরিয়ামে অন্তঃসত্ত্বা ওই তরুণী সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত সাহেব আলী আকুঞ্জী রামপাল উপজেলার উজলকুড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য। তার বাড়ি ওই ইউনিয়নের ঝালবাড়ি গ্রামে।

অভিযোগে তরুণী বলেন, গত বছর জেলার ফকিরহাট উপজেলার ঘনশ্যামপুর গ্রামের মিঠু গাজী নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া লেগেই ছিল। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সাহেব আলী আকুঞ্জী মিঠুকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

ওই তরুণী জানান, তিনি ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর মিঠু গাজীকে তালাক দেন। এরপর সাহেব আলী বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক করতে আগ্রহ দেখায়। এতে রাজি না হওয়ায় ওই তরুণীকে প্রায়ই ধর্ষণ করা হতো বলে তিনি অভিযোগে জানান।

তরুণী সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, আমাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে না করায় ৩ মার্চ আমার বাবা বাদী হয়ে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেছেন। এই মামলার পর সাহেব আলী ক্ষুব্ধ হয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তার বাবা ও মা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে সাহেব আলী বড় মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ধর্ষণ করেছে।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে অভিযুক্ত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুর রউফ দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, সাহেব আলী আকুঞ্জী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র বা অপপ্রচার কি না তা তদন্ত করে দেখতে পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছি। দলও অভিযোগ তদন্ত করে দেখবে। অভিযোগ প্রমাণিত হয় দলও তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে সাহেব আলী আকুঞ্জীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।