বিদ্যমান তারল্য সংকটের কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত অগ্রিম ও আমানতের অনুপাত (এডিআর) সমন্বয়ের সময়সীমা আবার বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে চারবার বাড়ানো হলো এ সময়সীমা। গতকাল ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে এক চিঠির মাধ্যমে এডিআর সমন্বয়ে আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত এক সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ৩১ মার্চের পরিবর্তে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে এডিআর সমন্বয় করতে পারবে ব্যাংকগুলো। এ নিয়ে চারবার এডিআর সমন্বয়ে সময় বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আমানতের তুলনায় ঋণ বেশি দেওয়ায় গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক অগ্রিম-আমানত অনুপাত সীমা পুনর্নির্ধারণ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে এডিআর সমন্বয়ে গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে তারল্য সংকটের কারণে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি এডিআর সীমা সমন্বয়ের সময় ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির দাবীর প্রেক্ষিতে এই সময়সীমা চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। গতকাল এ সমন্বয়ের সময় আরও ছয় মাস বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আমানতের তুলনায় ঋণ বেশি হওয়ায় ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি এক সার্কুলারের মাধ্যমে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর অগ্রিম-আমানত অনুপাত (এডিআর) ৮৫ শতাংশ থেকে ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশ ও ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য তাদের বিনিয়োগ-আমানত অনুপাত (আইডিআর) ৯০ থেকে ৮৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল দেশের ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব ব্যাংকের এডিআর নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি রয়েছে সেগুলোকে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ক্রমান্বয়ে নির্দেশিত মাত্রায় নামিয়ে আনতে হবে। এ জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ডিপার্টমেন্ট অব সাইট সুপারভিশনে দাখিল করতে হবে।
২০১৮ সালের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংক মালিকদের বৈঠকে এডিআর সমন্বয়ের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। ব্যাংক ব্যবস্থায় তারল্য সংকট সামাল দিতে ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও-সিআরআর) এক শতাংশ কমানো ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের তহবিলের ৫০ ভাগ অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে কোনো পদক্ষেপেই ব্যাংক খাতে তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ছিল ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। যেখানে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের ঘোষিত মুদ্রানীতিতে এ খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূলত তারল্য সংকট ও অগ্রিম-আমানত অনুপাত (এডিআর) সমন্বয়ের সময়সীমা শেষ দিকে চলে আসায় ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ পারছে না বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১১টি ব্যাংকের অগ্রিম আমানত অনুপাত নিধারিত সীমার চেয়ে বেশি রয়েছে। এ ছাড়া এ অনুপাত বেড়ে যাওয়ায় বেশকিছু ব্যাংক গ্রাহকদের ঋণ দিতে পারছে না। আবার কিছু ব্যাংক গ্রাহকদের ঋণ মঞ্জুর করলেও তারল্য সংকটের কারণে তা বিতরণ করতে পারছে না। যদিও ঋণ প্রবৃদ্ধিতে সরকারি খাতে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ, যা জানুয়ারিতেই ২২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।