সুনামগঞ্জে মূল লড়াইয়ে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতারা

সুনামগঞ্জের চারটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন সুনামগঞ্জের সাবেক বিএনপি নেতারা। এর মধ্যে কেন্দ্রের নির্দেশ না মানায় তিনজনকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। তবে এই চার চেয়ারম্যান প্রার্থীই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের জয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজারে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন বিএনপির শীর্ষ চার নেতা। এরা হলেন, তাহিরপুরে আনিসুল হক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ফারুক আহমদ, বিশ্বম্ভরপুরে হারুনুর রশিদ দুলাল এবং  দোয়ারাবাজারে হারুনুর রশিদ। এর মধ্যে কয়েক দিন আগে দলের নির্দেশ অমান্য করায় কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে জেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্বে থাকা আনিসুল হক, ফারুক আহমদ, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ দুলালসহ বেশ কয়েকজনকে। আর দোয়ারাবাজারের হারুনুর রশিদকে বছরখানেক আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কার করার পর নির্বাচনী তৎপরতা বেড়েছে এই চার প্রার্থীর। এর মধ্যে তাহিরপুরে আনিসুল হক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ফারুক আহমদ ও বিশ্বম্ভরপুরে হারুনুর রশিদ দুলাল চলে গেছেন মূল লড়াইয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, এই হেভিওয়েট প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন।  তাহিরপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুলের সঙ্গে আনিসুল হক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের আবুল কালামের সঙ্গে ফারুক আহমদ, বিশ্বম্ভরপুরে আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম চৌধুরী অথবা স্বতন্ত্র সফর উদ্দিনের সঙ্গে হারুনুর রশিদের তীব্র ভোটের লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, বিএনপি দলীয়ভাবে উপজেলা নির্বাচনে না গেলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে আগ্রহ হারায়নি। সুনামগঞ্জের চারটি উপজেলায়ই চেয়ারম্যান পদে লড়াই করা নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রচার, গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। পোস্টার, ব্যানারে লাগাতেও তাদের দেখা যাচ্ছে। প্রার্থীদের বহিষ্কার করা হলেও নির্বাচনী প্রচারে তার প্রভাব পড়েনি। উল্টো তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রচার, গণসংযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগে প্রতিটি উপজেলায় দলীয় কোন্দল প্রকট, দলীয় প্রার্থীদের অনেক জায়গায় মেনে নিচ্ছে না দলের একটি অংশ। আর সুবিধাটা নিচ্ছে বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বিএনপির অনেক প্রার্থীকে গোপনে নানা সুবিধা দিচ্ছেন।  জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুক আহমদ বলেন, ‘আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী, নির্বাচনী মাঠও ভালো আছে। ভোট সুষ্ঠু হলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, ‘বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র ব্যানারে নির্বাচন করলেও সমস্যা হবে না, সব কটি উপজেলায় দলীয় প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’