লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চিকে শুধু শিল্পী সত্তায় সীমাবদ্ধ করে রাখা যায় না। সংগীত, স্থপতি, চিত্রকর এবং অনেক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের নেপথ্যের ব্যক্তি বলা হয় তাকে। তার সৃষ্টিকর্মের অনেক নিদর্শন পৃথিবীর মানুষের সামনে থাকলেও তার নির্মিত কোনো ভাস্কর্য মানুষের দেখার সুযোগ হয়নি। চলতি সপ্তাহে সেই সুযোগ করে দিচ্ছে ইতালির ফ্লোরেন্সের একটি নিলামঘর।
বলা হচ্ছে, ভিঞ্চির নির্মিত এই একটি ভাস্কর্যই টিকে আছে। হাস্যোজ্জ্বল একটি শিশু কোলে ভার্জিন মেরির ওই ভাস্কর্যটি পালাজ্জো রজ্জিতে প্রদর্শন করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ১৪৭২ সালের দিকে ১৯ বছর বয়সী ভিঞ্চি এই ভাস্কর্যটি তৈরি করেছিলেন। তখন তিনি ফ্লোরেন্সের চিত্রকর আন্দেরা দেল ভেরোচিল্লোর ছাত্র ছিলেন।
নেপলস বিশ্ববিদ্যালয়ের রেনেসাঁ সময়কালীন বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেসকো কাগলিওতির মতে, ভিক্টোরিয়ান আমলের ভাস্কর্যের সঙ্গে ভিঞ্চির কাজ মিলে যাওয়া এতদিন ধরে ওই ভাস্কর্যটি শনাক্ত করা যায়নি। মেরির কোলে শিশু বাচ্চাটির হাসি গবেষকদের উৎসাহী করে ভাস্কর্যটি সম্পর্কে। কারণ চিত্রকর্মে এবং শিল্পের বিভিন্ন অঙ্গনে ‘হাসি’ অভিব্যক্তির মূর্তায়নে ভিঞ্চি স্বতন্ত্র। এছাড়া একই ভঙ্গিতে ভিঞ্চির আঁকা কিছু স্কেচও আছে ইতালির জাদুঘরে।
এতদিন ধরে এই ভাস্কর্যটিকে রোজ্জালিন্নো নামের এক শিল্পীর তৈরি বলে ভাবা হতো। কিন্তু সম্প্রতি গবেষকদের প্রমাণের ভিত্তিতে জানা যায় ভাস্কর্যটি ভিঞ্চির। গবেষকদের এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন জাদুঘরের স্কলার কারমেন সে বামবাক।
লিওনার্দোর ডায়েরিতে শিশু খ্রিস্টের মুখ আঁকতে গিয়ে সমস্যায় পড়ার কথা লেখা আছে। বিভিন্ন জাদুঘরের কিউরেটর ও গবেষকরা মনে করেন, তৎকালীন ওই ভাস্কর্যের জন্য ভিঞ্চিকে বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। যদিও এই নিয়ে স্বাধনী কোন ঐতিহাসিকের বিবৃতি বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে ভিঞ্চির হাতে লেখা দুই খ-ের ডায়েরিকেই প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান