মারা গেছে ‘জিহাদি বধূ’র শিশুসন্তান

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এক শরণার্থী শিবিরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ‘জিহাদি বধূ’ শামিমা বেগমের সদ্যোজাত সন্তান মারা গেছে। সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) বরাত দিয়ে এই সংবাদ জানিয়েছে আলজাজিরা।

এসডিএফের মুখপাত্র মুস্তফা বালি গত শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, ‘সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় একটি শরণার্থী শিবিরে শামিমা বেগমের সদ্যোজাত সন্তান মারা গেছে।’ সিরিয়ার অপর একটি সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে শামিমার জারাহ নামের সন্তানটি মারা যায়। জন্মের পর থেকেই শিশুটি শ্বাসকষ্টে ভুগছিল।

শামিমা বেগমের পারিবারিক আইনজীবী তাসমিন আকুঞ্জে এক টুইটবার্তায় এই সংবাদের সত্যতা স্বীকার করেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি পত্রিকার এক সাংবাদিকের মাধ্যমে গত মাসে সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবির থেকে নিজ দেশে ফেরার আহ্বান জানান শামিমা। প্রায় চার বছর আগে ১৫ বছর বয়সে যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে সিরিয়া যান শামিমা ইসলামিক স্টেটে যোগ দেওয়ার জন্য। সিরিয়া যাওয়ার পর বিদেশি এক আইএস যোদ্ধার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

শামিমা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইলেও যুক্তরাজ্য তাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। শামিমার বাবা যেহেতু বাংলাদেশি তাই ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশকে বলে শামিমাকে গ্রহণ করতে। কিন্তু শামিমা কখনো বাংলাদেশে ছিলেন না এবং তার কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট না থাকায় ঢাকা তাকে গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। এমন অবস্থায় শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত অপরাপর জঙ্গি ও তাদের স্ত্রীদের হুমকিতে তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। ফলে শামিমা পালিয়ে অন্য এক শরণার্থী শিবিরে চলে যান, যেখানে তার সন্তানের মৃত্যু হয়।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শামিমার নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে যুক্তরাজ্য সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে তখনই বলেছিলেন, শামিমার নাগরিকত্ব বাতিল হলেও আইন অনুযায়ী তার সন্তান জারাহ যুক্তরাজ্যের নাগরিক। জেরাহকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। তবে ফেরা হলো না জারাহর।