লুকানো ব্যালট পেপার উদ্ধার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে লুকানো ট্রাংকভর্তি ব্যালট পেপার উদ্ধার করে ভোট বর্জন করেন রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা ৩টায় ফের ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোট দিতে যাননি শিক্ষার্থীরা। এর আগে ভোট ৮টা থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ব্যালট বাক্স খুলে না দেখানোয় তা এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। ৬টি ব্যালট বাক্স দেখানোর পর আবার ভোট চালু হয়। 

রোকেয়া হলের ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, হলে মোট নয়টি ব্যালট বাক্সে ভোট গ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু ভোট শুরু হওয়ার সময় ছয়টি ব্যালট বাক্স দেখানো হয়। এ নিয়ে শুরু থেকেই তাদের মধ্যে সন্দেহ ছিল, বাকি তিন ব্যালট বাক্স গেল কোথায়। পরে তারা জানতে পারেন, পাশের একটি কক্ষে ওই তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছে। পরে ছাত্রীরা কক্ষটির দরজা ভেঙে ওই তিনটি ব্যালট বাক্স বের করে বাইরে নিয়ে আসেন। পরে তারা ওই ব্যালট বাক্সগুলোর তালা ভেঙে দেখেন, সেগুলোয় ব্যালট পেপার ভরা। তবে সেগুলোয় ভোট দেওয়া ছিল না। শিক্ষার্থীদের একজন অভিযোগ করে বলেন, ‘এত ব্যালট পেপার কেন? সেগুলো লুকিয়েই বা রাখা হবে কেন?’

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে রোকেয়া হলে যান ছাত্রলীগ, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলনের প্রার্থীসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী। পরে সেখানে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা ও সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী নুরুল হককে মারধর করেন ওই হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

জানতে চাইলে বাম সংঠনগুলোর প্যানেল থেকে এ হলের জিএস প্রার্থী মনিরা দিলশাদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা সকালে ব্যালট বাক্সগুলো দেখাতে বলি। কিন্তু শিক্ষকরা আমাদের দেখাতে চাননি। পরে সাংবাদিক নিয়ে যাওয়ার পর সেটা আমরা দেখি। এই সময় আরও বাক্স আছে বলে আমরা শুনতে পাই। কিন্তু সেটা আমাদের দেখানো হচ্ছিল না। পরে সকাল ১১টায় ভোটকেন্দ্রের পাশের রুম থেকে ব্যালটভর্তি ট্রাংক উদ্ধার করি। আমার প্রশ্ন, ব্যালট পেপার থাকবে ভোটকেন্দ্রের রুমে। কিন্তু সেটা কেন অন্য রুমে গেল? তারা চেয়েছিল এগুলো সরিয়ে পরে সিল মারবে।’

দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সামাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ৩টায় আবার ভোট শুরু হবে।’

৪টার দিকে হলে গিয়ে দেখা যায়, ভোটের লাইনে কোনো ভোটার নেই। হলের শিক্ষার্থীরা ‘প্রহসনের নির্বাচন মানি না, মানব না’ বলে সেøাগান দিতে থাকেন।  

সার্বিক বিষয়ে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি; বরং একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী ব্যালট ছিনতাই করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করব এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে।’ 

বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের এক সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হলের ব্যালট পেপার উদ্ধারকে ‘নাটক’ বলে আখ্যায়িত করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।