ঘূর্ণিঝড় প্রবণ ভাসান চরে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রোহিঙ্গাদের জন্য ‘নতুন সংকট’ তৈরি করার পাশাপাশি বাংলাদেশকেও ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এক দূত।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলে দ্বীপটিতে ২৩ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নেওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।
জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াঙ্গ লি সম্প্রতি ভাসান চর ঘুরে সোমবার জেনেভায় হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলকে জানান, বঙ্গোপসাগরের দ্বীপটি ‘সত্যিই বসবাসযোগ্য’ কিনা তিনি নিশ্চিত নন।
তিনি সতর্ক করে জানান, স্থানান্তরের ‘দুর্বল পরিকল্পনা’ শরণার্থীদের সম্মতি ছাড়া নেওয়া হয়েছে। যা নতুন ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন এমন অনেকে বলছেন, কাদাময়-নিচু দ্বীপটি বর্ষার মৌসুমে বন্যায় আক্রান্ত হবে। এখানে জীবিকার সুযোগও কম। অনেকটা ফাঁদে আটকা পড়া অবস্থা হবে রোহিঙ্গাদের।
২০১৭ সালের আগস্টে নতুন করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক হত্যা ও ধর্ষণের মুখে বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোকে ৭ লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে আসে।
নানা ধরনের অভিযোগ সত্ত্বেও, বাংলাদেশ সরকার আশা করছে ধাপে ধাপে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসান চরে সরিয়ে নেবে। যা কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোর ওপর থেকে চাপ কমাবে।
এ দিকে রোহিঙ্গা সংগঠক নায় সান লিন বিশ্বাস করেন, শরণার্থীদের ভাসান সরে জোর করেই নিতে হবে। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, “কেউ ভাসান চরে যেতে চায় না।”
লি জানুয়ারিতে থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন। তার ভিত্তিতেই একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
তবে শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার লিকে মিয়ানমারে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। এমনকি দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পাঠানো লিখিত প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে লি জানান, ভাসান চরে জাতিসংঘের পরিপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও মানবিক অবস্থার মূল্যায়নের অনুমতি দেওয়া হোক। রোহিঙ্গাদের দ্বীপটি দেখানো উচিত। তারপরই তারা সিদ্ধান্ত নেবে সেখানে যাবে কিনা।