ঝালকাঠির রাজাপুরে পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় সালমা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের খায়েরহাট বাজারে সাইমা মেডিকেল হলে এ ঘটনা ঘটে।
পল্লী চিকিৎসক মুহসিন উদ্দিন ও ফার্মেসি মালিক সজিব ঘটনার পর থেকে পালাতক রয়েছেন।
সালমা তিন সন্তানের জননী ও উপজেলার পুটিয়াখালী এলাকার কৃষক দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানায়, সালমার নয় মাসের শিশু সন্তান বুকের দুধ পান করতে করতে স্তনে ক্ষত হয়। এতে তার খুব ব্যথা অনুভব হয়। স্বামী দেলোয়ার সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় স্থানীয় খায়ের হাট বাজারে সাইমা মেডিকেল হলের মালিক সজিব খানকে ওই ক্ষতের ব্যাপারে জানায়।
সজিব তাৎক্ষণিক তার চেম্বারে বসা চিকিৎসক মুহসিন উদ্দিন নাঈমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে ওষুধ দেন এবং মঙ্গলবার সকালে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন।
পরদিন সকালে সজিবের পরামর্শ মতো সালমা নিজে একা বাড়ি থেকে সাইমা মেডিকেল হলের মুহসিন ডাক্তারের কাছে যান। ডাক্তার সালমার হাতে Triject 2g ইনজেকশন পুশ করার সঙ্গে সঙ্গে সালমা ছটফট করতে শুরু করেন।
ডাক্তার নাঈম ও সজিব সালমার পরিবারকে অসুস্থতার খবর জানিয়ে স্থানীয় একজনকে সালমার সঙ্গে দিয়ে তাকে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে তারা পালিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সালমার মৃত্যু হয়।
মৃতের স্বামী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সঠিক চিকিৎসা না দেওয়ার কারণেই আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আমি অভিযুক্ত ডাক্তারের বিচার চাই।
রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল জানান, সকাল সাড়ে ১১টায় সালমাকে আমাদের কাছে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসে।
তিনি বলেন, সালমাকে যে ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে তাতে তার মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। তবে দ্রুত ইনজেকশন পুশ করার কারণে তার মৃত্যু হতে পারে।
রাজাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদ হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।