ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলায় আহত ১১

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় অভিযান পরিচালনাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ট্রলারে অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে ইউএনওসহ ১১ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে গত সোমবার সন্ধ্যায়।

বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীকে সরকার মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করায় সোমবার সন্ধ্যায় ইউএনও পীযূষ চন্দ্র দের নেতৃত্বে ১১ জনের একটি দল ট্রলারে করে তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকাবিরোধী অভিযানে নামে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর খানকা পয়েন্টে তারা জেলেদের অবৈধভাবে মাছ ধরতে দেখতে পান। জেলেরা প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকা ও জাল ফেলে পালিয়ে যায়। নদী থেকে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও বাঁধা জাল জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পরে সংঘবদ্ধ হয়ে ৫০-৬০ জন জেলের একটি দল অতর্কিতে লাঠিসোঁটা নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওই ট্রলারে হামলা চালায় এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে ইউএনও পীযূষ চন্দ্র দে, ভূমি কার্যালয়ের জারিকারক মো. আশরাফ ও ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আবদুল্লাহসহ ১১ জন আহত হন। এ সময় আত্মরক্ষায় ইউএনওর সঙ্গে থাকা পুলিশ ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। আহতদের মধ্যে আশরাফ ও আবদুল্লাহকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, মৎস্য অধিদপ্তর তেঁতুলিয়া নদীকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে। এ কারণে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এখানে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। ইউএনও পীযূষ চন্দ্র দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হঠাৎ আক্রমণে ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।