যুক্তরাষ্ট্রের সমরবান্ধব বাজেট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার বাজেট-২০২০ প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। কিন্তু ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন কোনো ইতিবাচক দিক উন্মোচন করেনি এবং এতে বাণিজ্যযুদ্ধে প্রভাব পড়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এমনকি প্রেসিডেন্টের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যরাও প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করেছেন।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত দেড়শ পাতার বাজেটে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে তার চিন্তার পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। বাজেটে এবার কৃষি খাতে বরাদ্দ কমেছে। ২০১৯ সালের বাজেটে কৃষিতে বরাদ্দ ছিল ২৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু এবারের বাজেটে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। তবে প্রতিরক্ষা খাতে গত অর্থবছরের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বেড়ে এবার দাঁড়িয়েছে ৭১৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এরপরেই শিক্ষা খাতে আগের তুলনায় বাজেট বরাদ্দ ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ বিলিয়ন ডলারে। জ্বালানি খাতে বরাদ্দ কমিয়ে ধরা হয়েছে ৩১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এমনকি স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দ কমিয়ে করা হয়েছে ৮৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ কমানোতে এরই মধ্যে সমালোচনা করেছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ কমানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প আমেরিকার জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের বিমা সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়াও দরিদ্রদের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ডেমোক্র্যাট নেতা বার্নি স্যান্ডার্স ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, ‘ট্রাম্পের এই বাজেটের ফলে আমেরিকার শ্রমজীবী শ্রেণির কাছ থেকে অর্থ চলে যাবে ধনিক শ্রেণির কাছে। আর ধনীরা আরও ধনী হতে থাকবে।’

২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ না কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি এই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেটে অন্তত স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমানোর কারণে আগামী নির্বাচনে নেতিবাচক ফল ভোগ করতে হতে পারে ট্রাম্পকে। কারণ ফ্লোরিডা, আরিজোনা, পেনসিলভানিয়া এবং অন্যান্য রাজ্যে এ নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। আর ট্রাম্পকে নির্বাচনে জিততে হলে ফ্লোরিডা এবং আরিজোনার মতো রাজ্যগুলোর ভোটের দরকার হবে। কারণ ওই রাজ্যগুলোতে তরুণ ভোটারের সংখ্যা অন্য রাজ্যের তুলনায় বেশি।

তবে ট্রাম্পের এবারের বাজেটে সেনাবাহিনীর জন্য অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দকে বিশ্লেষকরা সেনা করপোরেশনকে নির্বাচনে পাশে রাখার পাঁয়তারা হিসেবে দেখছেন। প্রতিরক্ষা দপ্তরের বাজেট আগের তুলনায় ৫ শতাংশ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে সাড়ে সাত শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে কৃষি, শিক্ষা, জ্বালানি, স্বাস্থ্য এবং মানবসেবা, গৃহায়ন এবং নগর উন্নয়ন, যোগাযোগ, প্রকৌশল এবং পরিবেশ সুরক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ কমানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প ইসরায়েল লবির প্রভাবে প্রতিরক্ষা খাতকে সুরক্ষিত করতে গিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করে দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, অনেক বছর ধরেই ইসরায়েলি লবিস্টরা প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর ব্যাপারে চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে এই চাপ অগ্রাহ্য করা হয়।

এছাড়া সোমবারের বাজেটে অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ ধার্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্থানীয়দের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য অভিবাসীদের নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশেই এই ভিসা ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, বিবিসি, সিএনএন