চলতি মৌসুমে দারুণ খেলছেন ফরহাদ রেজা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) থেকেই অলরাউন্ড পারফর্মে আলো ছড়াচ্ছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন টোয়েন্টি২০ লিগে নিজের দলকে সেমিফাইনাল থেকে ফাইনালে তুলেছেন অনেকটা একক পারফর্মে। গতকাল আবারও তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ৫ উইকেটে জিতেছে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের ৮ উইকেটে ৩০১ রানের সংগ্রহ তাই ১০ বল হাতে রেখে টপকেছে দোলেশ্বর। বোলিংয়ে ২ উইকেট নেওয়া রেজা ব্যাট হাতে ১৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ৩০২ রানের লক্ষ্য তাই ৫ উইকেট হারিয়ে ছুঁয়ে ফেলে প্রাইম দোলেশ্বর।
এছাড়া আসরে টানা দ্বিতীয় জয় তুলেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতির বিপক্ষে ৪ উইকেটে জিতেছে তারা। খেলাঘরের ২২৫ রানের জবাবে ইনিংসের চার বল বাকি থাকতে ২২৮ রান করে মোহামেডান। এদিকে বিকেএসপিকে মোহামেডানের মতো ৪ উইকেটে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। বিকেএসপির করা ৭ উইকেটে ২৪৯ রানের পুঁজি ৬ উইকেটে ২৫২ রান তুলে জিতে নেয় গাজী গ্রুপ।
গতকাল মঙ্গলবার নিজ নিজ ম্যাচ জিতে তালিকার ওপরের দিকে উঠে এসেছে প্রাইম দোলেশ্বর ও মোহামেডান। আগের দিন দ্বিতীয় স্থানে থাকা রূপগঞ্জকে রানরেটে পেছনে ফেলেছে দু’দলই। ৪ পয়েন্টে দ্বিতীয় স্থান দোলেশ্বরের দখলে। সমান ৪ পয়েন্ট পেলেও তাদের চেয়ে রানরেটে পিছিয়ে থাকায় তৃতীয় মোহামেডান। চারে নেমে গেছে রূপগঞ্জ আর শীর্ষেই আছে আবাহনী। প্রাইম ব্যাংক ও গাজী সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম। আর বিকেএসপি ১১তম।
সাভারে আগের দিনও রান হয়েছিল। এক ম্যাচেই আসে তিন সেঞ্চুরি। সোমবারের মতো না হলেও গতকাল একটি সেঞ্চুরি হয়েছে সেখানে। আল-আমিনের সেঞ্চুরিতে ৩০১ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে প্রাইম ব্যাংক। ৯৯ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ১১১ রানের ইনিংস খেলেন আল-আমিন। সুদীপ চ্যাটার্জির (৫৭) সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১১০ রানের জুটি গড়েন তিনি। পরে জাকির হাসানের (৩৬) সঙ্গে ৮৫ রানের জুটি গড়েন। এতে বড় রান পায় প্রাইম ব্যাংক।
জবাবে ওপেনার সাইফ হাসানের ১০২ বলে ৮৫, মার্শাল আইয়ুবের ৮২ বলে ৭৬ ও সাদ নাসিমের ৪৭ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৪ রানের সুবাদেও জয়ের শঙ্কায় পড়ে যায় দোলেশ্বর। কিন্তু আল-আমিন হোসেনের ৪৭তম ওভারে ১৮ রান নিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করেন ফরহাদ রেজা।
মিরপুরে মোহামেডানকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জেতালেন অধিনায়ক রাকিবুল হাসান। আগের ম্যাচে ৮২ করা রাকিবুল এবার ৮৮ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৮৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়া আবদুল মজিদ ৪০ ও নাদিফ চৌধুরী ৩৯ করেন। এর আগে মোসাদ্দেক ইফতেখারের ১১৩ বলে ৮৭ রানের ইনিংসে ভর করে দুইশো অতিক্রম করে খেলাঘর।
ওদিকে ফতুল্লায় টপ অর্ডারদের দৃঢ়তায় ভালোই করেছিল বিকেএসপি। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জনি ৯৩ বলে ৮৫, চার নম্বরে নামা শামীম হোসেন ৪৪ ও তিনে নামা আমিনুল ইসলাম ৬৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। কিন্তু মিডল অর্ডাররা ব্যর্থ হওয়ায় আড়াইশোর পুঁজি গড়ে দলটি। জবাবে মেহেদী হাসানের ৭৩ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৭০ ও তৌহিদ তারেকের অপরাজিত ৯৩ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৭৬ রানে জয়ের পথে হাঁটে গাজী গ্রুপ। তবে দলকে জয় এনে দেন ২৪ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৩২ রান করা আবু হায়দার রনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
প্রাইম ব্যাংক-প্রাইম দোলেশ^র
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব : ৩০১/৮ (৫০ ওভার) (আল-আমিন ১১১, সুদীপ ৫৭, জাকির ৩৬, আরিফুল ২৮, এনামুল ২৮; আরাফাত সানি ২/৩৪, ফরহাদ রেজা ২/৪৩, সৈকত ২/৪৬)। প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব : ৩০২/৫ (৪৮.২ ওভার) (সাইফ ৮৫, মার্শাল ৭৬, সাদ ৬৪, ফরহাদ রেজা ৩৫*; মনির ২/৪৩, আরিফুল ২/৫১)। ফল : প্রাইম দোলেশ্বর ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : সাদ নাসিম।
খেলাঘর-মোহামেডান
খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতি : ২২৫ (৪৭.৩ ওভার) (ইফতেখার ৮৭, অমিত ৩৭, মেনারিয়া ২৬; সোহাগ গাজী ৩/৪১, কাজী অনিক ২/১৯, আলাউদ্দিন বাবু ২/৪২)। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব : ২২৮/৬ (৪৯.২ ওভার) (রকিবুল ৮৪*, মজিদ ৪০, নাদিফ ৩৯; রবিউল ২/৪১, তানভির ২/৪১)। ফল : মোহামেডান ৪ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : রাকিবুল হাসান।
বিকেএসপি-গাজী গ্রুপ
বিকেএসপি : ২৪৯/৭ (৫০ ওভার) (জয় ৮৫, আমিনুল ৬৩*, শামীম ৪৪, রাতুল ৩৪; আবু হায়দার ২/৪৬, রাব্বি ২/৫২)। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স : ২৫২/৬ (৪৯.২ ওভার) (তৌহিদ ৭৬*, মেহেদী ৭০, আবু হায়দার ৩২*; মুরাদ ৩/৩২, মুকিদুল ২/৫৬)। ফল : গাজী গ্রুপ ৪ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : তৌহিদ তারেক।