২২ বছর পর চালু হচ্ছে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ

রেল বিভাগের লোকসানের অজুহাতে ১৯৯৭ সালে বন্ধ করে দেওয়া ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইনটি পুনরায় চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে রেল লাইনটি পুনঃস্থাপনের জন্য জরিপ (সমীক্ষা) কাজ শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ। চূড়ান্ত করা হয়েছে বেদখলে যাওয়া রেলের সম্পত্তির তালিকা। বহু প্রতীক্ষিত এ রেল যোগাযোগ চালু হলে ভাগ্য খুলবে পরশুরাম-ফুলগাজীবাসীর। বিলোনিয়া হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে মালামাল পরিবহনে নব দিগন্তের সূচনার জন্য পরিত্যক্ত এ রেল লাইনটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯২৯ সালে ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ চালু করা হয়। ২৭ কিলোমিটারের এ পথে বন্ধুয়া, দৌলতপুর, আনন্দপুর, পীরবক্স মুন্সির হাট, নতুন মুন্সির হাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া, পরশুরাম ও বিলোনিয়া স্থানে ৮টি স্টেশন স্থাপন করা হয়।

সড়ক যোগাযোগ না থাকায় এক সময় এ রেলপথ ছিল ফেনী থেকে ফুলগাজী ও বিলোনিয়ার শিক্ষার্থী, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র মাধ্যম। ১৯৭১ সালের পর রেল যোগাযোগের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হওয়ায় কদর কমে যায় এ রেলপথের। ব্যাপক লোকসানের কারণে ১৯৯৭ সালের ১৭ আগস্ট কর্তৃপক্ষ ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথ বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘ ২২ বছর পরিত্যক্ত থাকায় লাইনের অনেক স্থানে স্লিপার চুরি হয়ে গেছে। রেল লাইনের উপর দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও নানা রকমের প্রতিষ্ঠান বসিয়েছে প্রভাবশালীরা। দখল হয়ে গেছে রেল বিভাগের রক্ষিত ৮টি স্টেশন ঘর, সরঞ্জামাদি ও বিভিন্ন সম্পত্তি। এসব ঘটনায় লাকসাম জিআরপি থানায় অন্তত ৩০টির উপর মামলা হলেও কার্যত কোনো লাভ হয়নি বলে দাবি সংশিষ্ট বিভাগের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইনটি পুনঃস্থাপনের জন্য প্রাযুক্তিক অর্থনীতির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ দেওয়া হয়েছে ভারতের হায়দারাবাদের আরভে এসোসিয়েটস আর্কিটেক্টস ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্টস কোম্পানিকে। বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ফেনী জেলা প্রশাসককে পরিত্যক্ত ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইনের জন্য দুই লেন পুনঃস্থাপনে প্রাযুক্তিক অর্থনীতির সম্ভাব্য সমীক্ষায় সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে জরিপ কার্যক্রম শেষ করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। জরিপ প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) বিভাগে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইনটি পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হবে।

এদিকে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়ায় রেল লাইন নির্মাণে সমীক্ষার কাজ শেষ করেছে ভারত। আগরতলা স্টেশন থেকে বিলোনিয়া পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণে ৪০ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজও শেষ করেছে তারা।

ফেনী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মাহবুবুর রহমান জানান, প্রাযুক্তিক অর্থনীতির সম্ভাব্য সমীক্ষা শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদনের পর কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল জলিল জানান, রেলের যাবতীয় সম্পত্তি সনাক্তকরণ, অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিতকরণসহ প্রাথমিক কাজগুলো ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। শিগগিরই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এটি সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।