১৯৮৫ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশি লেখক ও দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর। তার জন্ম ১৯০০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বরিশালের লামছড়ি গ্রামে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে। তার প্রকৃত নাম আরজ আলী। বাবার নাম এন্তাজ আলী মাতুব্বর। তিনি গ্রামের মক্তবে কিছুকাল পড়াশোনা করার পর স্বচেষ্টা ও সাধনায় বিজ্ঞান, ইতিহাস, ধর্ম, দর্শনসহ নানা বিষয়ের ওপর জ্ঞান অর্জন করেন। পরে এক সহৃদয় ব্যক্তির সহায়তায় তিনি স্কুলের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। নিজের জ্ঞানের পিপাসা মেটাতে তিনি বরিশাল লাইব্রেরির সব বাংলা বই একজন মনোযোগী ছাত্রের মতো পড়েন। দর্শন ছিল তার প্রিয় বিষয়। পৈতৃক পেশা কৃষিকাজ দিয়েই তার কর্মজীবনের শুরু। অবসরে জমি জরিপের কাজ করে তিনি আমিনি পেশার সূক্ষ্ম গাণিতিক ও জ্যামিতিক নিয়ম সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেন। আর্থিক সংকটের কারণে তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স বা ডিগ্রি লাভ করতে পারেননি। মূলত
বস্তুবাদী দর্শনে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন। অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তিনি লেখালেখি করেছেন। তার রচনায় মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী দার্শনিক প্রজ্ঞার ছাপ রয়েছে। তার লিখিত বইয়ের মধ্যে ‘সত্যের সন্ধান’, ‘সৃষ্টি রহস্য’, ‘সীজের ফুল’, ‘শয়তানের জবানবন্দি’ অন্যতম। তিনি ১৯৭৮ সালে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার এবং ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সম্মাননা লাভ করেন।