যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতির নেতিবাচক অবস্থার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় সময় গত বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি।
প্রায় ৫০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনের শুরুতেই সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনকে বিতর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পরিচালনার নীতি থাকলেও বাস্তবে প্রায় সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেন্দ্রিক।
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে একপাক্ষিক অভিহিত করে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগ এমন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো জয় পেয়েছে, যাকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলা যায় না। এ নির্বাচন বিতর্কিত হয়েছে নানা অনিয়মের কারণে, যার মধ্যে রয়েছে জালভোট এবং বিরোধী পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের বাধা দান। নির্বাচনী প্রচার চলাকালে হয়রানি, বাধা, উদ্দেশ্যমূলক গ্রেপ্তার এবং সহিংসতার কারণে বিরোধী পক্ষের প্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগ, মিছিল ও মুক্তভাবে প্রচার অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিদেশি নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের যেতে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগও আনা হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে। মানবাধিকার পরিস্থিতি উল্লেখ করতে গিয়ে বেআইনি হত্যা, বলপূর্বক গুম, নির্যাতন, সরকার বা তার পক্ষ থেকে জোর করে কারাবরণ, কারাগারে নির্যাতনসহ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের পরিবেশ না থাকা, মতপ্রকাশে বাধা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কাজে বাধা প্রদান, শ্রমিক সংগঠন করতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
‘ক্রসফায়ারে’ গত বছরের ২৬ মে কক্সবাজারে সরকারদলীয় নেতা একরামুল হক একরামের নিহতের ঘটনা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া পুলিশ হেফাজতে ৬ মার্চ ঢাকার ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।
৩ মার্চ ফয়জুর রহমান নামে এক ব্যক্তির হামলায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল আহতের ঘটনা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৩০ ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সরকার যথাযথ ‘মর্যাদা’ দিতে পারেনি বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। জুলাইয়ে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় ১২ সাংবাদিকের ওপর হামলার কথাও উঠে এসেছে।