মসজিদ থেকে বাবা কি আর কোনোদিন ‘ফিরবেন না’!

প্রতি সপ্তাহের মতো জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলেন মালয়েশীয় নাগরিক ৩৯ বছর বয়সী রাহিমি আহমাদ। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন ছেলেকেও। সেখানেই ঘটে বন্দুকধারী শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর হামলা।

নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের ডিনস অ্যাভিনিউর আল নুর মসজিদসহ দুটি মসজিদে হামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ জন নিহত হয়েছে বলে দেশটির সরকার নিশ্চিত করেছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।

মসজিদের সামনে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ভর্তি গাড়ি থেকে নামে বন্দুকধারী। অস্ত্রসজ্জিত হয়ে সরাসরি ঢুকে পড়ে মসজিদে। দরজার সম্মুখ থেকেই গুলি চালাতে চালাতে মসজিদে প্রবেশ করে সে। এসময় মসজিদের বাইরে খেলছিল রাহিমির শিশু ছেলে।

নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ড জানায়, গুলির শব্দ শুনে মসজিদে প্রবেশরত আরেক মুসল্লি রাহিমির ছেলেকে দ্রুত পার্শ্ববর্তী একটি ঘরে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যান। তবে রাহিমি বেঁচে আছে, নাকি নিহত হয়েছে এ সম্পর্কে কিছুই জানে না তার পরিবার।

উৎকণ্ঠায় থাকা তার স্ত্রী আজিলা বলেন, “আমি শুধু জানতে চাই, তিনি নিরাপদে আছেন। আমি প্রার্থনা করছি এবং আশা করছি, তিনি শিগগিরই আমাকে ফোনে কল করবেন।”

তিনি বলেন, “মসজিদে যাওয়ার সময় রাহিমি সঙ্গে করে মোবাইল নিয়ে গেছেন। আমি নিশ্চিত তিনি দ্রুত যোগাযোগ করবেন আমার সঙ্গে। কিন্তু এ মুহূর্তে আমি বলতে পারছি না, তার কী অবস্থা হয়েছে।”

রাহিমির স্ত্রী বলেন, “আমার ছেলে মসজিদের বাইরে খেলছিল। এ সময় হামলাকারী মসজিদে গুলি চালায়। আমাদের এক বন্ধু তাকে দ্রুত মসজিদের পাশে আরেকটি ঘরে নিরাপদে সরিয়ে নেন। কিন্তু রাহিমির কী অবস্থা হয়েছে ওই বন্ধু কিছুই বলতে পারেনি। গুলির সময় রাহিমি মসজিদে ছিলেন।”

“ঘরের বাইরে না যেতে সবাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন ঘরের ভেতরে। কী করতে হবে আমি এখন কিছুই বুঝতে পারছি না।”

এদিকে রাহিমির সম্পর্কে জানতে দেশটিতে মালয়েশীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন ক্যানটারবারি মালয়েশিয়ান সোসাইটির প্রেসিডেন্ট স্যাম ইয়াউ।

একজন মালয়েশীয় জখম হয়েছে বলে সেখানকার মালয়েশিয়ান হাইকমিশন নিশ্চিত করেছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে বলা হচ্ছে, আরেক মালয়েশীয় ওই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

রাহিমি এবং আজিলা মালয়েশিয়ার পেনাং শহরের বাসিন্দা। পাঁচ বছর ধরে দুই শিশু সন্তান নিয়ে ক্রাইস্টচার্চে বসবাস করে আসছেন তারা।