পরমাণু আলোচনা বন্ধের ইঙ্গিত

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দিয়ে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষা চালুর নির্দেশ দিতে পারেন। উত্তর কোরিয়ার জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা এমন আভাস দিয়েছেন।
বিবিসির খবরে জানানো হয়, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিমের মধ্যকার সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ‘সোনালি সুযোগ’ হারিয়েছে বলে বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী চো সুন-হুই।

ভিয়েতনামের হ্যানয়ের ওই আলোচনায় উত্তর কোরিয়া তাদের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ইয়ংবিয়নের কার্যক্রম বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সব পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস না করলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন না বলে জানান। পরে কাক্সিক্ষত সময়ের আগেই আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের খবরে অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে চো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতের আলোচনার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান শিগগিরই ঘোষণা করবেন কিম জং-উন। তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কাছে কোনোভাবেই নতি স্বীকারের ইচ্ছা নেই আমাদের। একই সঙ্গে এ ধরনের কোনো দরকষাকষিতেও যেতে চাই না আমরা।’

যুক্তরাষ্ট্র ‘গ্যাংস্টারের মতো’ অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন উত্তর কোরিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৈঠকে বড় পাঁচটি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা বলেনি দেশটি।

তিনি বলেন, ‘স্পষ্টত এবার যুক্তরাষ্ট্র একটি সোনালি সুযোগ ছুড়ে ফেলেছে। আমি নিশ্চিত নই, যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন ভাষ্য নিয়ে কেন সরে এলো। আমরা সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা বলিনি।’

ফেব্রুয়ারির বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও স্পষ্ট করে বলেন, উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তারা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘পুরো বিষয়টি ছিল নিষেধাজ্ঞাকেন্দ্রিক। তারা সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলেছিল; আমরা এটা করতে পারব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাঝে মাঝে আপনাকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং এটা ছিল সে রকম একটি মুহূর্ত।’

চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে উত্তর কোরিয়ার জন্য নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিফেন বাইগুন বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ‘এখনো অনেক বেশি সজীব’। যদিও বাইগুন ভিয়েতনাম সম্মেলনের পর কোনো দরকষাকষি হয়েছে কি না, তা জানাননি। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনার কোনো রূপরেখাও দেননি তিনি।

গত বছর প্রথমবারের মতো সিঙ্গাপুরে বৈঠকে বসেন কিম জং-উন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামে দ্বিতীয়বারের মতো বসেন তারা। সে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তৃতীয় বৈঠকের জন্য কোনো পরিকল্পনা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে ‘ভালো ফল’ আসতে পারে।