প্রায় দেড় বছর ধরে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শামলাপুরের একমাত্র খেলার মাঠ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) ‘দখলে’ রয়েছে। রোহিঙ্গাদের ত্রাণকাজ পরিচালনার জন্য মাঠজুড়ে বিভিন্ন এনজিওর স্থাপনা নির্মাণ করায় ক্রীড়া-বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্থানীয়রা। মাঠটি বেদখল থাকায় রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দিবস উদযাপন ও সামাজিক সভা-সমাবেশ করা যাচ্ছে না।
২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গা নৃগোষ্ঠীর অসংখ্য মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশের উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নেয়। উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে টেকনাফের শামলাপুর গ্রামেও স্থাপন করা হয় আশ্রয় শিবির। পরে ওই গ্রামের একমাত্র খেলার মাঠে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিওর অফিস ও ত্রাণকেন্দ্র বসানো হয়। এরপর থেকে ওই মাঠে খেলাধুলা ও সমাবেশ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণের জন্য পশ্চিম পাশে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন খালি জায়গা ছাড়াও আশপাশে অনেক খালি জায়গা রয়েছে। কর্র্তৃপক্ষ চাইলে সেখানে এসব এনজিওর ত্রাণকেন্দ্র ও অফিস সরিয়ে নেওয়া কোনো জটিল বিষয় নয়।
মাঠটি বেদখল থাকায় টেকনাফ শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যাচ্ছে না। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ মঞ্জুর বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু খেলার মাঠে এনজিওর ত্রাণকেন্দ্র স্থাপন করায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’ খেলার মাঠ দখল করে গড়ে তোলা এনজিওগুলো অন্যত্র সরিয়ে এলাকার একমাত্র এই খেলার মাঠ দখলমুক্ত করার দাবি জানান তিনি। টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজ উদ্দিন জানান, এলাকার জন্য এই মাঠটি ছাড়া দ্বিতীয় আর কোনো খেলার মাঠ নেই। টেকনাফের ইউএনও রবিউল হাসান বলেন, সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সংকটে বিভিন্ন সংস্থা খেলার মাঠে অস্থায়ীভাবে ত্রাণকেন্দ্র গড়ে তুলেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে যেন সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে খেলার মাঠটি উন্মুক্ত করা হয়।