ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের অংশ হিসেবে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ থেকে মাটি খননে চীন থেকে আনা হয়েছে সাকশন ড্রেজার। এটি দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় খনন করা যাবে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার ঘনমিটার মাটি। বর্তমানে খননকাজে নিয়োজিত ছোট ড্রেজার তিনটির পাশাপাশি নতুন আসা ৩১ ইঞ্চি ব্যাসের ড্রেজারটি শিগগির কাজ শুরু করবে। এর ফলে মন্থর হয়ে পড়া ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের কাজে গতি আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ আগে চীন থেকে সাকশন ড্রেজারটি এসেছে। এটি এখন প্রকল্প এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে রয়েছে। খনন শুরু করার জন্য এর পাইপ সংযোজনের কাজ চলছে।’ তিনি জানান, কর্ণফুলীর তলদেশে জমে থাকা পলিথিনের কারণে বর্তমানে খননকাজে নিয়োজিত ড্রেজারগুলো বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নতুন সাকশন ড্রেজারটি দিয়ে কাজ শুরুর পর সে সমস্যা আর থাকবে না বলে আশা করেন এ কর্মকর্তা।
কর্ণফুলীর নাব্য ফেরাতে প্রায় ২৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং’ প্রকল্প নেয় বন্দর কর্র্তৃপক্ষ। ই-ইঞ্জিনিয়ারিং এবং চায়না হারবার নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় সদরঘাট থেকে উজানের দিকে বাকলিয়ার হামিদচর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকা খনন করে ৪৩ লাখ ঘনমিটার পলি ও মাটি তোলার কথা রয়েছে। এ মাটি দিয়ে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে হামিদচর এলাকায় বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গা ভরাট করা হবে। এ ছাড়া সদরঘাট এলাকায় ৪০০ মিটার লাইটারেজ জেটি নির্মাণের কথা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কর্ণফুলীতে পাঁচ মিটার গভীরতার জাহাজ চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তারা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খননকাজের জন্য গত বছর নভেম্বরেই চীন থেকে অধিক শক্তিসম্পন্ন এ ‘সাকশন ড্রেজার’ আসার কথা ছিল। সময়মতো তা না আসায় অনেকটা মন্থর হয়ে পড়ে খননকাজের গতি। ফলে এই সময়ের মধ্যে কাজের যতটা অগ্রগতি হওয়ার কথা তা হয়নি। গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ শতাংশ অগ্রগতি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ।
চীন থেকে আসা সাকশন ড্রেজারটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের সিনিয়র হাইড্রোগ্রাফার নাসির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন খনন প্রকল্পে যেসব ড্রেজার ব্যবহার করা হয় সেগুলো ২০, ২২ ও ২৬ ইঞ্চি ব্যাসের। এসব ড্রেজার দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা সম্ভব। ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের জন্য আনা সাকশন ড্রেজারটির ব্যাস ৩১ ইঞ্চি। এটি দিয়ে ঘণ্টায় সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার ঘনমিটার মাটি তোলা যাবে। তিনি বলেন, ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং’ প্রকল্পে কর্ণফুলী থেকে খননকৃত মাটি আশপাশে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। এসব মাটি ফেলতে হবে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে। সাধারণ ড্রেজার দিয়ে তা সম্ভব নয়।