‘অন মাইয়ারে ভালো জাগাত বিয়া দিতে হাইরুম’

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের অভিরামপুর গ্রামের শাহিনুর বেগম। তার মাথা গোঁজার মতো তেমন ভালো ঘর ছিল না। গত দশ বছর ধরে একটা ভালো ঘরের স্বপ্ন তিনি দেখে আসছেন। তার কথায় ‘দশ বছর ধরি একখান ঘর কইত্তে হারিনো। তুফান আইলে ঘর উড়াই লই যায় কি না হেই ডরে ঘুম আইতো ন। মেঘ আইলে হানি হড়ে, শীতকালে ঠাণ্ডয় কষ্ট হাই।’ এসব কথা বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে দুহাত তুলে দোয়া করে বলেন, শেখের বেটি আংগোরে ঘর দিছে আমরা হেরে দোয়া করি।’ তার এ তৃপ্তি ও আশীর্বাদ সরকারের দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ‘সবার জন্য বাসস্থান’-এর ‘জমি আছে, ঘর নাই’ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে পাকাঘর পাওয়ার আনন্দে।

 এ প্রকল্পের আরেক সুবিধাভোগী চ-িপুর গ্রামের মাহফুজা স্বামী পরিত্যক্তা। বাপের বাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে ৩০ বছর বোনের বাড়িতে সামান্য জায়গায় পাতার ছাউনির একটি ঘরে বসবাস করতেন। বিনামূল্যে ঘর পেয়ে তিনিও খুশি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ‘সবার জন্য বাসস্থান’ নিশ্চিত করতে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ওই প্রকল্পের আওতায় গৃহহীন ৪৮০টি পরিবার ঘর পেয়েছে।

কয়েকদিন আগেও যারা খুপরি ঘরে বাস করতেন, বৃষ্টিতে ভিজতেন আর শীতে কষ্ট পেতেন সে সব পরিবারের লোক এখন বসবাস করেন পাকা বসতভিটায়। ব্যবহার করেন স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার। এসব পরিবারের অনেকের বসতঘর না থাকায় বিয়ের উপযুক্ত মেয়েকে বিয়ে দিতে কষ্ট হতো। ঘর পেয়ে ভোলাকোট এলাকার বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘মাইয়া ডাঙ্গর অইছে, অন মাইয়ারে ভালা জাগাত বিয়া দিতে হাইরুম।’ ঘর পেয়ে উচ্ছ্বসিত নিচহরা গ্রামের দিনমজুর বিল্লাল হোসেন, পৌর নন্দনপুর গ্রামের রিকশাচালক আমির হোসেন, ভোলাকোট গ্রামের বিধবা রৌশনারা বেগম, অভিরামপুর গ্রামের অসহায় কবিতা কংশ বণিক, টামটা গ্রামের প্রতিবন্ধী সফিকসহ উপজেলার দুস্থ ও অসহায় অনেকেই।

এ প্রকল্পের প্রতিটি ঘর ও শৌচাগার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এসব ঘর গৃহহীনদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়।