নিউ জিল্যান্ড থেকে দেশে ফেরা ক্রিকেটারদের ক্রাইস্টচার্চ ট্র্যাজেডি ভুলতে আপাতত খেলা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। মানসিকভাবে চাঙা হলেই তাদের মাঠে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তবে সাদমান ইসলামকে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত মাঠে নেমে পড়ার নির্দেশ দিলেন তার বাবা। বাংলাদেশের হয়ে তিনটি টেস্ট খেলা ওপেনার সাদমানও বলছেন, ক্রিকেটই হতে পারে তাদের সেরা চিকিৎসক।
গেল শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। যাতে নিহত হয়েছেন ৫০ জন। আক্রান্ত দুই মসজিদের একটি- আল নূর মসজিদে জুম’আর নামাজ আদায়ের জন্য যাচ্ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ভাগ্যক্রমে সেদিন প্রাণে বেঁচে যান তারা।
শনিবার টাইগাররা দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘‘ওদেরকে বলেছি, যাও বাসায় যাও। সবকিছু বাদ দিয়ে, ঠান্ডা মাথায়, নিজেদের মতো করে যা ভালো লাগে সেভাবে কাটাও।’’
ক্রিকেটারদের অনেকে ইতিমধ্যে বাড়িও চলে গেছেন। অনেকে আছেন ঢাকাতেই। তবে খুব বেশি সময় মাঠের বাইরে যে থাকছেন না তারা, তা একরকম বলাই যায়। মানসিক ধাক্কাটা মাঠেই কাটিয়ে উঠতে চান অনেকে।
সাদমান ইসলাম যেমন সেই দলে। এই ওপেনারের বাবা শহিদুল ইসলাম বিসিবির ডেভেলপমেন্ট কমিটিতে কাজ করেন। তার মতে বাড়িতে থাকাটা ছেলের ওপর মানসিক চাপ আরো বাড়াবে। তাই তিনি চান দ্রুত মাঠে ফিরুক ছেলে।
সাদমানের বাবা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজকে বলেন, “আমি ওকে দ্রুতই মাঠে ফিরতে বলেছি। কারণ সে ঘরে অনেক চাপের মধ্যে আছে। অনেক আত্মীয়-স্বজন আসছে, ক্রাইস্টচার্চের ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছে। সে ব্যাপারটা নিয়ে মোটও স্বস্তিতে নেই।’’
প্রিমিয়ার লিগে সাদমানের দল শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। যে দলটি মঙ্গলবার আবাহনীর বিপক্ষে মাঠে নামবে। তবে ফতুল্লায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে সাদমান প্রথম একাদশে থাকবেন কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। কারণ পিঠের চোটে ভুগছেন তিনি।
তবে ক্রাইস্টচার্চ ট্র্যাজেডির জন্য মাঠে ফেরাকে বিলম্বিত করতে চান না সাদমান, ‘‘আমি মাঠে ফেরার জন্য মুখিয়ে। কারণ আমি মনে করি ক্রিকেটই আমাদের প্রধান চিকিৎসক।’’