অতীতের সব নির্বাচনে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে কঠোর থাকলেও চলমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলের বিদ্রোহে গা করছে না আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে প্রথম দুই ধাপের নির্বাচনে প্রায় ৭৫ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই করে চেয়ারম্যান হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এতগুলো উপজেলায় নৌকার প্রার্থী বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হলেও সেসব বিদ্রোহীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, নেওয়াও হবে না। কারণ দলে তাদের ভূমিকা রয়েছে। এই বিবেচনায় তাদের ‘বিদ্রোহের অপরাধ’ আমলেই নেওয়া
হচ্ছে না। দেশ রূপান্তরকে তারা আরও বলেন, উপজেলা নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলের তৃণমূলের নেতারা বিদ্রোহ প্রকাশ করে প্রার্থী হওয়াকে অন্যায় হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীনরা। কারণ বিদ্রোহী প্রার্থীরাও দলের, নৌকার প্রার্থীরা তো দলেরই। তাই ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থ নেব? তবে বিএনপিসহ সব দল নির্বাচনে এলে এই বিদ্রোহ অপরাধ হিসেবেই দেখা হতো।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করাই আমাদের লক্ষ্য। এজন্য অন্য কোনো বিষয় আমরা ভাবিনি, ভাবছি না। দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশ করে দুই ধাপের নির্বাচনে যেসব চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে তাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলে যার যে অবস্থানে আছে এখনো সে অবস্থানই থাকবে। সম্পাদকম-লীর আরেক সদস্য বলেন, বিজয়ের পর কে বিদ্রোহী হয়ে পাস করে এলো আর কে দলীয় প্রতীক নৌকা পেয়ে পাস করে এলোÑ তা দেখা হবে না। নৌকা সমর্থিত আর বিদ্রোহ প্রকাশ করে চেয়ারম্যান পদে পাস করে আসা সবাইকে সমানভাবে গ্রহণ করবে আওয়ামী লীগ। এই নেতা আরও বলেন, কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীকে আমরা নির্বাচন করতে নিরুৎসাহিত করিনি। কেন্দ্র থেকে সব প্রার্থীকে সমানভাবে দেখা হয়েছে। সভাপতিম-লীর এক সদস্য বলেন, উপজেলা নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্যর সমর্থন পেয়েছেন প্রার্থীরা। কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে বলা হয়েছে বাড়তি সুবিধা কাউকে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, দুই ধাপের নির্বাচনে দেখা গেছে, বাড়তি সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা তা মানেননি। পরবর্তী তিন ধাপের নির্বাচনে আমরা কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা যাতে বাস্তবায়ন হয়Ñ সেই চেষ্টা করব।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি নাÑ তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভার পর বিদ্রোহীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ‘তবে আমি মনে করি, দল যাকে মনোনয়ন দেয় নেতাকর্মীদের তার পক্ষে কাজ করা উচিত’Ñ বলেন মতিয়া চৌধুরী।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ব্যাপারে আমরা কীভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব? তবে হয়তো দলের সাংগঠনিক কর্মকা-ে সেসব নেতাকে নজরদারিতে রাখা হবে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা নির্বাচন একরকম উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। কারণ আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন চাই।