শিক্ষকরা যখন নতুন রাজনৈতিক যোদ্ধা

ভারত জুড়ে নির্বাচনের উত্তাপ প্রতি মুহূর্তে নতুন মাত্রা যোগ করছে। ক্ষমতাসীন পার্টি বিজেপিসহ (ভারতীয় জনতা পার্টি) অন্য দলগুলো আগামী নির্বাচনে জিততে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের নি¤œবর্গীয় মানুষের ভোট আদায়ে ‘হাম ভি চৌকিদার’ ‘আমিও চৌকিদার’ প্রচারণায় নেমেছেন। বিরোধী দল কংগ্রেসের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও গঙ্গার বুকে নৌকায় চড়ে প্রচারে নেমেছেন।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন এবং ক্ষমতার বাইরের সব শিবিরই রাজনীতির মাঠে দেশের শিক্ষক ও গবেষকদের নামাতে চাইছেন। নরেন্দ্র মোদি দেশকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মধ্যে রাখতে বিভিন্ন স্তরের জাতীয়বাদী শিক্ষকদের দলে টানছেন। তেমনি বাম শিবিরও তাদের মতাবলম্বী শিক্ষকদের সামনে আনছেন জনগণকে নতুন কিছু উপহার দেওয়ার জন্য। সব দলের নির্বাচনী ইশতেহার যা-ই হোক না কেন, রাজনীতির মাঠে সব দলই নতুন মুখ আনতে চাইছেন, এ বিষয় পরিষ্কার।

গত পাঁচ বছরের রাজনৈতিক পালাবদলে ভারতের সমাজ এখন যতটা দ্বিধাবিভক্ত তা এর আগে কখনো হয়নি বলে মনে করছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডিইলিও। মোদি ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পেছনে অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব উপস্থিতি। দেশের নতুন ভোটারদের বিজেপির পক্ষে ভোট দিতে ব্যাপক প্রচার চালানো হয় তখন। এবারও মোদি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন শিক্ষকদের নিয়ে।

নির্বাচনী প্রচারের কৌশল হিসেবে মোদি তার জনসভায় উজ্জ্বলা স্কিম, সাচ্চা ভারত মিশন, প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার মতো অনেক বিষয় তুলে ধরছেন জনগণের সামনে। অনলাইনে এক আহ্বানে মোদি ‘অ্যাকাডেমিকস ফর নমো’ শিরোনামে দেশের গবেষক, ফ্যাকাল্টি সদস্য, লেখক, কলামনিস্ট, প্যানেলিস্ট এবং চিন্তকদের বিজেপিকে আগামী পাঁচ বছর দেশ চালানোর জন্য কাজ করতে বলেন।

ভারতের ১৫টি শহরের ৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ জনের বেশি শিক্ষক মোদিকে সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন ইতিমধ্যেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (বিএইচইউ) অন্যতম। তারা সবাই মিলিতভাবে মোদিকে কেন্দ্র করে যত নেতিবাচক ধারণা প্রচলিত আছে তা দূরীকরণে কাজ করছেন তাদের লেখনীর মাধ্যমে।

দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে জেএনইউর শিক্ষকবন্দনা মিশ্র বলেন, ‘আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যায়ে থেকে নরেন্দ্র মোদিকে সমর্থন করছি। কারণ তিনি নারীদের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক উদ্যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে উজ্জ্বলা স্কিম করা হয়েছে দরিদ্র নারীদের জন্য। এ ছাড়া গর্ভবতী নারীদের ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি, সেনাবাহিনীতে নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির মতো উদাহরণও রয়েছে।’ ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াচ্ছে অনেক দিন ধরেই। এই উত্তাপে শুধু যে শিক্ষার্থীই জড়াচ্ছে তা নয়, শিক্ষকরা রয়েছেন। মহাগাটবন্ধনের সময় শিক্ষকদের কণ্ঠস্বর মোদিকে পতনের দ্বার থেকে বাঁচিয়ে দেয়। অ্যাকাডেমিকস ফর নমো গ্রুপের সদস্য দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্বদেশ সিং বলেন, ‘ভারতে বিজেপির চিন্তাকে ছড়িয়ে দিতে এই পদক্ষেপ ভূমিকা পালন করবে। এই পদক্ষেপ ভারতকে শক্তিশালী করবে।’