‘ওরে গৃহবাসী খোল্, দ্বার খোল্, লাগল যে দোল। স্থলে জলে বনতলে লাগল যে দোল।’ উচ্চকণ্ঠে বাজছে রবীন্দ্রনাথের গান। সুরের তালে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও বয়োজ্যেষ্ঠরা মেতেছেন রঙের উৎসবে। মুখে লাল, নীল, সবুজ ও হলুদসহ হরেক রঙের মাখামাখি। একসঙ্গে আনন্দ-উল্লাস করছেন সবাই। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে রাধাকৃষ্ণের দোলযাত্রা ও গৌরপূর্ণিমা উৎসবের এই চিত্র দেখা যায়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা বা হোলি উৎসব। বাংলাদেশে এটি ‘দোলযাত্রা’ নামেও পরিচিত। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী এদিন শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধিকা ও তার সখীদের সঙ্গে আবির খেলেছিলেন। সেখান থেকেই এর উৎপত্তি।
দোলযাত্রা ও গৌরপূর্ণিমা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন মন্দিরে পূজা, হোম যজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজারেও দেখা যায় উৎসবের রং। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দোলযাত্রায় অংশ নেন প্রসেনজিৎ। তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা সবাই মিলে ভীষণ আনন্দ করেছি। সারা বছর দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকি।’
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দোল উৎসব ও কীর্তন আয়োজন করে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন ম-ল যৌথ বিবৃতিতে দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।