মসজিদে মুসলিমদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশংসিত ভূমিকা রাখায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার দাবি উঠছে।
এজন্য ইতোমধ্যে অনলাইনে একটি পিটিশনও খোলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাকে নিয়ে চলছে প্রচারণাও।
গত ১৫ মার্চ জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামের এক শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টানের গুলিতে কয়েকজন বাংলাদেশিসহ কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হন। আহত হন আরও ৪৬ জন যাদের ১২ জনকে আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে যায় সেখানে টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
হামলার এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির অস্ত্র আইন সংশোধনী আনেন প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন।
দোকান থেকে কেনা দুটি আধা-স্বয়ংক্রিয় মেশিনগানসহ পাঁচটি অস্ত্র দিয়েই মসজিদে হামলা চালিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় ট্যারেন্ট। ফলে অস্ত্র আইনের সংশোধনীর দাবি উঠে দেশটিতে। দুদিন পরে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে সরকার এ বিষয়ে একমত হন।
এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার আরডার্ন নাগরিকের হাতে সামরিক ঘরানার সব ধরনের অস্ত্র নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ান আরডার্ন। সেই সঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতি ধর্ম সম্প্রদায় নির্বিশেষে ঐক্যের ডাক দেন। তার সরকারের দ্রুত প্রচেষ্টায় আক্রান্ত মসজিদ মেরামত করে পুনরায় নামাজের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার জুমার দিনে ক্রাইস্টচার্চের হেগলি পার্কে মুসলিম ছাড়াও জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। মুসলিমদের প্রতি সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানাতে হেগলি পার্কে এসেছিলেন কিউই প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। তিনি মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কুশল বিনিময় করেন।
নিহত মুসলিম নারীদের সম্মানে এদিন মাথায় স্কার্ফ পরেছেন আরডার্নসহ অমুসলিম হাজারো নারী।
এর আগে আরডার্নের নির্দেশে নিউজিল্যান্ডের টেলিভিশনে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে জুমার নামাজের আজান সম্প্রচার করা হয়। সেই সঙ্গে সরাসরি সম্প্রচার হয় জুমার নামাজ ও সম্প্রীতি সমাবেশ।
আরডার্নের দৃষ্টান্তমূলক এই নেতৃত্বে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশটির জনগণ। এতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছেন আরডার্ন। ২০১৭ সালে ৩৭ বছর বয়সেই বিশ্বের সবচেয়ে কমবেশি নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি।
ফরাসি কবি ড. খেল তুহাবাল্লি শুক্রবার আরডার্নকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবিতে এ পিটিশন খোলেন। হাউস অব উইজডম ফেজ গ্রানাডার ইন্টেলেকচুয়াল সেন্টারের এই প্রতিষ্ঠাতাও ক্রাইস্টচার্চের হামলার ঘটনার মধ্যদিয়ে চিনতে পারেন আরডার্নকে।