পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি জাল দলিল করে কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে। এক সময়ে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনের জায়গাটিসহ ৮৫ শতক জমির অধিকাংশই ব্যক্তিমালিকানা দাবি করে স্থানীয় এক ব্যক্তি প্রায় ৯৫ লাখ টাকায় তা বিক্রিও করে দিয়েছেন।
রেলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ থেকে ৬৭ সালে রেলওয়ে পঞ্চগড়ের ধাক্কামারা এলাকার বিভিন্ন মৌজার প্রায় ৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। সে সময় আলিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ওই ৮৫ শতক জমি অধিগ্রহণের সময় রেলওয়েকে দেন।
সম্প্রতি রেলস্টেশন সংলগ্ন ঘাটিয়াপাড়া এলাকার আশরাফুল ইসলাম হঠাৎ জমিটি নিজের কেনা দাবি করে ৭৫ শতক জমি চার জনের কাছে প্রায় ৯৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। বোদা উপজেলার ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল জুবেরী কিনেছেন ৩০ শতক, আটোয়ারীর মির্জাপুর এলাকার আরিফুল ইসলাম কিনেছেন ৩৭ শতক, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ব্যারিস্টার বাজার এলাকার মোস্তাফিজুর রহমান ৪ শতক, ঘাটিয়াপাড়া এলাকার রিক্তা বানু কিনেছেন ৪ শতক। বাকি ১০ শতক এখনো আশরাফুলের দখলেই আছে। রেলের জমি হওয়ায় বেচাকেনাটাও বেশ গোপনেই হয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তা জুবেরী সম্প্রতি লোকজন দিয়ে তার অংশটিতে পাকা প্রাচীর তুলতে শুরু করেন। শুরুতে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেন নতুন ক্রেতারা। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে রেলের জমিতে লিজ নিয়ে বসবাস করে আসা ব্যক্তিদের বাড়ির উঠানেও প্রাচীর তুলেন। পরে গত ১৩ মার্চ রেল কর্র্তৃপক্ষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাদের নির্মাণাধীন প্রাচীর ভেঙে দেয়। তবে দখল কার্যক্রম থেমে নেই। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পঞ্চগড় রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা খলিলুর রহমান জানান, আমরা শুরু থেকেই দেখে আসছি ওই জমিতে রেলের কোয়ার্টার ছিল। এখন দেখছি তা দখল করে দেয়াল তোলা হচ্ছে। একই এলাকার তসলিম উদ্দিন জানান, আমরা রেলের পতিত জমি লিজ নিয়ে ব্যবহার করছি। যদি রেল চায় যেকোনো সময় সেটি নিতে পারবে। তবে লিজের বাইরেও অনেক জমি দখল হয়ে গেছে। এখনো দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। কর্র্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
জমির মালিকানা দাবিদার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘৮৫ শতক জমিটির আরএস রেকর্ড রেলের নামে বাকি রেকর্ড আমার নামে। জমিটি আমার নামে আমার বাবা কিনেছেন।’
রেলওয়ে পশ্চিমের লালমনিরহাট বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘জমিটি নিঃসন্দেহে রেলের। ওই জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও উত্তোলন করা হয়েছে। এক ব্যক্তি জাল দলিলের মাধ্যমে জমিটি তার দাবি করে বেচাকেনা করছিল।’ তিনি আরও বলেন, রেলের জমি রেলেরই থাকবে। দখল হয়ে যাওয়া রেলের জমি শিগগিরই উদ্ধার করা হবে।