সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুরে বাসচাপায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ছাত্র ওয়াসিম আফনান প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ওয়াসিম সিকৃবির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র। তিনি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের রুদ্র গ্রামের আবু জাহেদ মাহবুবের ছেলে।
বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ওয়াসিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার সহপাঠীরা।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের এসআই কামরুল ইসলাম জানান, সিলেট-ময়মনসিংহ রুটে চলাচলকারী উদার পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ওয়াসিম মারা গেছেন। ওয়াসিম ও তার কয়েকজন সহপাঠী নবীগঞ্জের আউশকান্দি থেকে সিলেটে আসার জন্য ওই বাসে উঠেছিলেন। বাস চালকের সহকারীর সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হলে তারা শেরপুরেই নেমে যেতে চান। বাসটি শেরপুর থামিয়ে তাদের নামিয়ে দিয়ে চলতে শুরু করলে চাপা পড়েন ওয়াসিম। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, ঘটনার পর পুলিশ বাসটিকে ধাওয়া করে ওসমানীনগরের বেগমগঞ্জ এলাকায় আটক করে। তবে চালক ও তার সহকারী বাস থেকে নেমে পালিয়ে গেছে।
ওয়াসিমের সহপাঠী নয়ন বলেন, ‘ওয়াসিমকে ধাক্কা দিয়ে বাসের হেলপার গাড়ি থেকে ফেলে দেন এরপর চালক তাকে চাপা দিয়ে হত্যা করেছেন।’
এ ব্যাপারে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম সুয়েব জানান, ওয়াসিমের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি ওসমানী হাসপাতালে গেছেন। সেখানে ওয়াসিমের সহপাঠীরা তার কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ওয়াসিমকে হত্যা করা হয়েছে। তারা এর বিচার চান’।
এরপর রাত ৯টার দিকে তারা সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এ সময় সেখানে জড়ো হন। তারা আফনান হত্যার বিচার দাবিতে স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের সহপাঠী ওয়াসিম আফনানকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করেছে বাসের চালক ও তার সহকারী। আমরা এর বিচার চাই। অবিলম্বে চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করতে হবে।’
এ সময় তারা নিরাপদ সড়কের দাবিতে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। প্রায় পৌনে একঘন্টা অবরোধ চলাকালে সড়কের উভয়পাশে বিপুলসংখ্যক যানবাহন আটকা পড়ে।
সিকৃবির প্রক্টর মৃত্যুঞ্জয় কুন্ডসহ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে অবরোধ প্রত্যাহার করান। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, ঘাতক চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করা না হলে আজ রবিবার তারা ক্লাশ বর্জনসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করবে।