‘তামাকে ভ্যাট না কমানোর পরামর্শ’

আগামী পহেলা জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হবে বলে সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন আইনে বর্তমানে অধিকাংশ পণ্যে থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) কমিয়ে ১০ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার কথা রয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলে সব ধরনের পণ্যের ওপর ভ্যাট কমবে। এমনকি তামাকজাত পণ্যও এর বাইরে নয়।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন ও বিশিষ্টজনরা। তারা বলছেন, তামাকের ওপর ভ্যাট কমানো হলে তামাকজাত পণ্য আরও সহজলভ্য হবে। এটি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘তামাকমুক্ত দেশ’ গড়ার ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। এ অবস্থায় অন্য পণ্যে ভ্যাট হার কমালেও তামাক পণ্যে তা না কমিয়ে উল্টো বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর দেশের তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন ওই ঘোষণার বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

কিন্তু গত ১৪ মার্চ প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে। সেটিকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। পহেলা জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে ভ্যাটের স্তর হবে তিনটিÑ ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বিষয়টি ঘোষণা দিলেও এখনো তা বাস্তবায়ন পর্যায়ে আসেনি। বাজেটের ওপর সংসদেও আলোচনা হবে। এরপর চূড়ান্ত কিছু বলা যাবে। এ ছাড়া আসন্ন সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তামাক নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকবে। এজন্য আগে থেকেই বেশ কিছু উদ্যোগও হাতে নিয়েছে সরকার। তামাক নিয়ন্ত্রণ করা গেলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সহজ হবে।’

তামাকবিরোধী জোট প্রজ্ঞার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করে। এর মধ্যে ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ এবং ধূমপায়ীর সংখ্যা ১ কোটি ৯২ লাখ। আবার পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে তামাক পণ্যের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া ব্যবহার অনুপাতে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমলেও সংখ্যার ভিত্তিতে বাড়ছে ব্যবহারকারীর সংখ্যা।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম যুবায়ের বলেন, ‘মানুষের আয় যেভাবে বাড়ছে সে তুলনায় বিড়ি-সিগারেট ও তামাক পণ্যের দাম বাড়েনি। সরকারের উচিত আগামী বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর আরও সহজ করে খুচরা মূল্যের ভিত্তিতে ভ্যাট প্রণয়ন করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘তামাক পণ্যে ভ্যাট কমানো হলে ২০৪০ সাল নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর তামাকমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। কারণ এতে তামাকজাত পণ্যের সহজলভ্যতা বাড়বে, বাড়বে ব্যবহারকারীর সংখ্যাও।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভ্যাট কমলে জনগণের জন্য ভালো। পণ্যের দাম কমবে। কিন্তু তামাককে যেন এর আওতায় না আনা হয়। বরং জনস্বাস্থ্য বিবেচনা করে তামাক পণ্যের ওপর কর আরও বাড়ানো উচিত।’

নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হলে তামাকজাত পণ্য এর আওতায় পড়বে কি না জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘ভ্যাট আইন কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এই অবস্থায় এটি নিয়ে এখন মন্তব্য করা যাবে না।’