আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন যুদ্ধাপরাধীর সন্তান। মির্জা ফখরুল নিজেও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।’
গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব, আপনি নিজেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন এ রকম নজির নেই। আপনার পরিবার সম্পর্কেও আপনার এলাকায় অভিযোগ আছে। আপনার বাবাও স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানে ছিলেন। এখন নিজেরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঝান্ডা ধরতে চান।’
হানিফ বলেন, ‘আপনার শরম লাগে বলতে? আপনিও একজন যুদ্ধাপরাধীর সন্তান। নিজেকে (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে, মুক্তিযুদ্ধাদের লেবাস দাঁড় করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।’
গতকাল দুপুরে এক গণ-অনশন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের একুশের চেতনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আল মাহমুদ সাহেবকে শহীদ মিনারে নিয়ে সম্মান দেখানো হয়নি। এরা সম্মান দেখাবে কোত্থেকে? আমার সন্দেহ হয় যে, তারা কি সেই একুশের চেতনা বিশ্বাস করে? করে না। তারা কি একাত্তরের চেতনাতে বিশ্বাস করে? করে না। যে স্বাধীনতার কথা তারা বলতে থাকে তার কতটুকু তারা বিশ্বাস করে?’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব, বিভিন্ন সময় আপনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে না, ধারণ করে কে? কোন লজ্জায় বলেন আপনারা। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কারা ধ্বংস করেছিল? আপনার শরম লাগে বলতে?’
তিনি বলেন, ‘আপনার দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এই দেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর কুখ্যাত রাজাকার, আল বদর যারা কারাগারে আটক ছিলেন, দালাল আইন বাতিল করে তাদের মুক্তি দিয়েছিলেন। স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করেছিল কে? কুখ্যাত রাজাকার আব্দুল আলিমকে মন্ত্রী বানিয়েছিল কে?’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কারা স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিষ্ঠা করেছিল? নিষিদ্ধ যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীকে কারা রাজনীতিতে সুযোগ করে দিয়েছিল। কুখ্যাত রাজাকার প্রধান গোলাম আযমকে কে দেশে ফিরিয়ে এনে নাগরিকত্ব দিয়েছিল। এসব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের? সেটাই বিশ্বাস করেন আপনি।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে না, চেতনা ধারণ করে বিএনপি? যারা পাকিস্তানের এজেন্ডা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের এজেন্ডা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। সেটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।’
আওয়ামী লীগ ভিন্নমত সহ্য করতে পারছে না বলে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, ‘২০০১ সালে নির্বাচনের পর আপনারা সারা দেশে গণহত্যা চালিয়েছিলেন। যেভাবে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল এর সঙ্গে একমাত্র গণহত্যার তুলনা করা যায়। তখন ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা বলেন কোন মুখে? ভিন্নমত সহ্য করার কথা বলেন কোন মুখে। আজকে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই আপনারা এখনো সরকারের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। ভিন্নমত সহ্য করে বলেই মিডিয়ার মাধ্যমে আপনাদের মিথ্যাচার জাতি দেখছে। দেশ আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলেই আপনাদের গাত্রদাহ হয়। তাই সুযোগ পেলেই ষড়যন্ত্র করেন। আর ধোয়া তুলেন, গণতন্ত্রের কথা বলেন।’
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডা. নুজহাত চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ নাথ প্রমুখ।